টিকার অভাবে দুই মাস বন্ধ থাকার পর আবার করোনা টিকার তৃতীয় ও চতুর্থ ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সপ্তাহের শেষ দিন আগামী বৃহস্পতিবার থেকে স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে এই টিকা দেওয়া হবে। কোনো কারণে সেদিন সব কেন্দ্রে টিকা না পৌঁছালে আগামী সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রবিবার থেকে অবশ্যই টিকা পাবে মানুষ। এবার ফাইজারের নতুন টিকা ‘ভ্যারিয়ান্ট কনটেইনিং ভ্যাকসিন’ (ভিসিভি) দেওয়া হবে। গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ সপ্তাহ থেকেই এই টিকা দেওয়া হবে বলে জানান। তবে সম্মেলনে কবে থেকে টিকা দেওয়া শুরু হতে পারে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু বলেননি স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় স্বাস্থ্য অধিপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) নাজমুল হক খানসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে আগামী বৃহস্পতিবার অথবা আগামী সপ্তাহের রবিবার থেকে টিকাদান শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, ইতিমধ্যেই এই টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শেষ হয়েছে। সেখানে কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দেয়নি। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে টিকা পাঠানো শুরু হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে এ সপ্তাহের শেষ দিন বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে তৃতীয় ও চতুর্থ ডোজ টিকা দেওয়া শুরু হবে। কোনো কারণে কোনো কেন্দ্রে সেদিন টিকা না পৌঁছালে আগামী সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রবিবার থেকে অবশ্যই টিকা পাবে মানুষ। টিকা নিতে নতুন করে কোনো খুদেবার্তা পাঠানো হবে না। ইতিমধ্যেই যাদের দ্বিতীয় ডোজ ও তৃতীয় ডোজ নেওয়ার চার মাস পার হয়েছে, তারা এবার তৃতীয় ও চতুর্থ ডোজ টিকা পাবেন।
গতকালের সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘এই টিকাটি (ফাইজারের নতুন টিকা ‘ভ্যারিয়ান্ট কনটেইনিং ভ্যাকসিন’ বা ‘ভিসিভি’) নতুন উদ্ভাবিত টিকা এবং বিভিন্ন দেশে দেওয়া হচ্ছে। বুস্টার ডোজ হিসেবে আমরা এই টিকাটি দেব। আমরা প্রায় ৩০ লাখ ডোজ টিকা ইতিমধ্যে পেয়েছি। এই টিকার মাধ্যমে তৃতীয় ও চতুর্থ ডোজ দেওয়া হবে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, দেশে আসা ফাইজারের নতুন টিকার ট্রায়াল ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। ট্রায়ালে কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। সারা দেশে সিটি করপোরেশন, জেলা-উপজেলার স্থায়ী টিকাকেন্দ্রগুলোতে এই টিকা দেওয়া হবে। যাদের বয়স ১৮ বছরের বেশি তারা তৃতীয় ডোজ এবং ক্রনিক রোগী যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই, গর্ভবতী মা ও সম্মুখ সারির যোদ্ধারা চতুর্থ ডোজ পাবেন।
নতুন টিকার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই টিকার অনুমোদন দিয়েছে। এ ছাড়া দেশের টিকাদানের জাতীয় কারিগরি কমিটি ও ওষুধ প্রশাসনেরও অনুমোদন রয়েছে।
এর আগে দেশে করোনা টিকার মজুদ না থাকায় গত মার্চ থেকে তৃতীয় ও চতুর্থ ডোজ দেওয়া স্থগিত করেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
গতকালের সংবাদ সম্মেলনে করোনা টিকাদানের তথ্য তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গোটা বিশ্ব যত টিকা পেয়েছে তার ১১ শতাংশ টিকা বাংলাদেশ পেয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৬ কোটির অধিক টিকা দেওয়া হয়েছে। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৮৮ দশমিক ৫১ শতাংশকে প্রথম ডোজ, ৮২ শতাংশকে দ্বিতীয় ডোজ, ৪০ শতাংশকে তৃতীয় ডোজ ও ২ শতাংশ মানুষকে চতুর্থ ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। করোনার টিকাদানে বাংলাদেশের অবস্থা বেশ ভালো। গড়ে ৮৫-৯০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে পেরেছি। বিশ্বে এই হার ৭২ শতাংশ।
করোনার মারাত্মক আকার ধারণের আশঙ্কা নেই বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি জেনেভা থেকে এসেছি। সেখানে দেখলাম একটি লোকও মাস্ক পড়েনি। সেখানে যে রোগী হচ্ছে না দু-একটা করে তা নয়। আমাদের এখানেও দু-একটি করে রোগী পাচ্ছি। ইদানীং কিছু বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে তেমন কোনো রোগী নেই। যেহেতু টিকা সবাই নিয়েছেন, সেজন্য কোনো মারাত্মক আকার ধারণ করছে না করোনা।’
এরপরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলব, করোনা যেহেতু আছে আমাদের সতর্ক থাকাটা ভালো। যেখানে বেশি লোকের সমাগম হয়, সেখানে মাস্ক পরতে পারলে ভালো। করোনা মোকাবিলার জন্য যেসব অভিজ্ঞতা আমরা সঞ্চয় করেছি, সেগুলো আমাদের মনে রাখা উচিৎ।’