‘জনপ্রিয়’ শব্দটা শুনলেই বুদ্ধিশাসিত অ্যাকাডেমি একটু নড়েচড়ে বসে। জনপ্রিয়তা যেন হালকা, চটুল বা পাতলা ধরনের কিছু। অবশ্য পুরোপুরি প্রমাণ করাও কঠিন যে, এটি সবসময় ইতিবাচক। জনপ্রিয়তা কখনো শিল্পমূল্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিকও। ‘জনগণ’ ‘আমজনতা’ ‘জনরুচি’ এই শব্দগুলো যেমন তরল, তেমনি ক্লিশে। তারপরও কেন জনপ্রিয় হয় রচনা?
খ্যাতির বিড়ম্বনার মতো জনপ্রিয়তারও রয়েছে শত বিড়ম্বনা। জনপ্রিয়তার রাজনীতিও রয়েছে। প্রচার মাধ্যম জনপ্রিয়তাকে মোটেও এড়িয়ে চলে না। কাউকে পরিচিত করার কাজে তারাই ভূমিকা পালন করে। সিরিয়াস সাহিত্যও কখনো জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে। তবে এই এর পেছনে শিক্ষা-রুচি-শিল্পবোধ-শ্রেণি প্রভৃতি দায়ী। সমরেশ মজুমদারের সাহিত্য নিয়েও রয়েছে নানা মত। উত্তরাধিকার-কালবেলা-কালপুরুষ ট্রিলজি থেকে সাতকাহন, তেরো পার্বণ, স্বপ্নের বাজার, উজান গঙ্গা, ভিক্টোরিয়ার বাগান, আট কুঠুরি নয় দরজা, অনুরাগ ইত্যাদি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। তার গল্প-উপন্যাস গতানুগতিকতার একটু বাইরে, একঘেয়েমি-মুক্ত। পাঠক এ কারণেও তাকে সাদরে গ্রহণ করেছে। বস্তুত দৌড় থেকে উত্তরাধিকার, কালবেলা, কালপুরুষ কিংবা সাতকাহন থেকে গর্ভধারিণী কি মৌষলকাল জনমানসে তোলপাড় তুলেছে। বিশেষ করে তার ট্রিলজি-সৃষ্ট চরিত্র অনিমেষ-মাধবীলতা-অর্ক পাঠক মনে মূর্ছনা জাগায়, দীপাবলি চরিত্র অভিভূত করে। তার উপন্যাসের অপ্রধান চরিত্রগুলোতেও পাঠক অন্তকরণে মিশে যেতে পারে। জনমনের চাওয়া নিয়ে লেখক পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করেছেন।
আখ্যানের টানটান উত্তেজনাই হয়তো উপন্যাসকে পাঠকপ্রিয় করে। সহজাত, জ্ঞাত, অভিজ্ঞতা-সহযোগী, চরিত্রে সহজপ্রবেশ্যতা, মানবিকতা, সত্যের জয় প্রভৃতির সঙ্গে শিল্পবোধের সম্পর্ক থাক না থাক, ঘটনার ঘনঘটা মানুষকে আকৃষ্ট করে। কেবল বিশুদ্ধ উপন্যাস নয়, রোমান্স-থ্রিলারসহ বহুরূপ রয়েছে জগতে। এরূপ পরিচিত একটি জেনর কল্পকাহিনি। সাধারণত সাহিত্যিক-উপন্যাস থেকে তা আলাদা করা হয়। এগুলো নির্দিষ্ট প্যাটার্নে লিখিত, প্লটভিত্তিক কাল্পনিক রচনা। কিন্তু একশ্রেণির পাঠক ও ভক্তের কাছে এর বেশ আবেদন। নোবেলজয়ী ডরস লেইসিং, মার্গারেট এটউডের ‘বিজ্ঞান কথাসাহিত্য’, ম্যার্গারেটসহ অগাথাক্রিস্টির ডিটেকটিভ উপন্যাস বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। বাংলা ভাষায় সত্যজিতের ‘ফেলুদা’ কার অবজ্ঞাত? এ ধারার লেখক জর্জ সিমননকে আঁদ্রে জিদের মতো বড় লেখক ফরাসি সাহিত্যের শ্রেষ্ঠতম ঔপন্যাসিকের অভিধা দিয়েছিলেন। তার প্রধান চরিত্রগুলো অপরাধপ্রবণ, কল্পনাচারী, রোমাঞ্চপ্রিয়। কল্পবিজ্ঞান সাহিত্য অনুপ্রেরণামূলক, একই সঙ্গে ভয়াবহ রোমাঞ্চকর।
সাহিত্যকে সর্বসাধারণের মনোযোগের কেন্দ্রে আনা কঠিন, পাঠকরুচি নির্ভর কাজ। পাঠক-সৃষ্টির কাজে নির্দিষ্ট যুগে একেকটি বৈশিষ্ট্য প্রবল হয়ে উঠতে পারে। উপনিবেশিত হওয়ার পর থেকে আমরা সবসময় ইউরোপের মাপকাঠিকে বড় বলে ভেবে এসেছি। কিন্তু ভারতবর্ষের পঞ্চতন্ত্র, থেরিগাথা বা জাতকের গল্পের কথা তো আমাদের জানা। মধ্যযুগের কাব্যনির্ভর কাহিনিগুলোর দিকেও তাকাতে পারি। তবে ইউরোপ নতুন যুগে নতুন চিন্তা দিয়েছে, মানলাম। খোদ এশিয়ারই অন্য অঞ্চলে তাকানো যাক সেখানে সত্য ভিন্ন।
জাপানে মীযি যুগে ‘কথোপকথন’-ধারা উৎস হয়ে উঠেছিল। মুরাকামির মতো সাহিত্যিকও তা গ্রহণ করেছেন। এমনকি রণরোকু ও তুকুকারা শিকিসাকুয়েন প্রমুখও বাদ যাননি। তিশো যুগের মাজুৎসাগোগো পাস নামে প্রকাশিত যুগোপযোগী উপন্যাস জনপ্রিয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। নাকাজাতো নাকায়ামা, শিরাই কোজি, নাওকি জুরি, বিগ বুদ্ধ জিরো, ইয়োশিকাওয়া হিজি, হেসগাওয়া নোভুসহ অন্য লেখকরাও এ ধারায় আবির্ভূত হয়েছেন। এখানে আধুনিক, পারিবারিক ও রোমাঞ্চ উপন্যাস, গোয়েন্দা গল্প, হাস্যরস-উপন্যাস নানা শাখা রয়েছে। আর অপেক্ষাকৃত অগ্রসর সময়ে বিশুদ্ধ সাহিত্য ও জনপ্রিয় সাহিত্যের পার্থক্য ক্রমেই কমে এসেছে। বিশুদ্ধ সাহিত্যিকের হাতেও জনপ্রিয় সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে এবং মধ্যবর্তী উপন্যাসের প্রাদুর্ভাবে সেই পার্থক্য যেন ক্রমে অপসৃয়মাণ।
জনপ্রিয়তা নির্ভর করে মানুষের শিক্ষা ও রুচির মাত্রার ওপর। একটা জাতি কিংবা জাতীয় সংস্কৃতি কী চায়, তার ওপরও নির্ভর করে। সাহিত্যের বাণিজ্য-সফলতাও এখানে একটা মারাত্মক প্রশ্ন। আমরা কি বাণিজ্যনির্ভর সাহিত্যকে ‘জনপ্রিয়তা’র মোড়কে হালকা রচনা বা ‘বাজারি সাহিত্য’ বলব? বাজার-সফল লেখার কি কোনো মূল্য নেই? আমাদের সাহিত্যে অনেকেই শিল্পমানের বিচারে উত্তীর্ণ, একই সঙ্গে জনপ্রিয়। তাই বলে তারা ‘বাজারি সাহিত্যিক’ নন।
পবিত্র সরকার বলেন, “উপন্যাসে আখ্যান-কাঠামো একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এবং সাধারণ পাঠকের কাছে ‘গল্পটা কী দাঁড়াল’ সেই বিবেচনাই শেষ পর্যন্ত উপন্যাসের জনপ্রিয়তা নির্ধারণ করে।’ কবি শামসুর রাহমানের ভাষ্যে, ‘আসাদের শার্ট’ কিংবা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ছাড়াও আমার আরও অনেক কবিতা আছে, যেগুলো শিল্পের দিক থেকে অধিকতর মূল্যবান। কিন্তু সেগুলো অবহেলিত আমার মনে হয়। তবে মানুষের যেটা ভালো লাগে সেটাকে তো আর আমি অস্বীকার করতে পারি না, অগ্রাহ্য করতে পারি না।” অনেক সময় কিছু রচনা জনপ্রিয় হওয়ায় অনেক ভালো লেখা চাপা পড়ে যায়। আবার মানুষের ভালো লাগাকেও স্বীকৃতি দিতে হয়।
কথাসাহিত্যে নিটোল গল্প বলার পথ অনেকে পরিহার করেছেন। এতে পাঠকের সঙ্গে যোজন-যোজন দূরত্ব তৈরি হয়েছে। কখনো কাহিনিকার নিরেট গল্পের আড়ালেই মানুষের জীবনকথা বলেছেন। একটি গ্রন্থ হয়তো স্বয়ংক্রিয়ভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তারপর আর পেছন ফিরতে হয়নি। এই জনপ্রিয় বা পপুলার কিছু একটা সৃষ্টি হয়ে গেলে লেখক ‘পাবলিক ফিগার’ হয়ে উঠেছেন। তাই জনগণে প্রিয় হলেই কাউকে অভিযুক্ত করা ঠিক নয়। আবার অতি আবেগে উচ্চতার চরম বলে মান্যতা দেওয়াও কাজের কথা নয়।
হুমায়ুন আজাদ একবার সমকালীন সাহিত্য সম্পর্কে বলেন, “বাংলাদেশে এখন সাহিত্য নামে যা সৃষ্টি হচ্ছে, তার অতি ক্ষুদ্র অংশই সাহিত্য। আমাদের বয়স্ক কবিরা থেমে গেছেন বা নিজেদের পুনরাবৃত্তি করছেন, তরুণরা অকাব্যিক গ্রাম্যতায় মেতে আছে, উপন্যাসের অবস্থা শোচনীয় জনপ্রিয় ধারার ‘অপন্যাস’ তরুণদেরকে গ্রাস করছে।” বোধকরি এখানে তিনি এন্টি-নভেলে ইঙ্গিত করেছেন। চরিত্র-চিত্রণ, কাহিনিবৃত্ত ও উপন্যাসের ভাবলক্ষণ-বর্জিত এক ধরনের উপন্যাসকল্পকে ‘এন্টি-নভেল’ বা ‘অপন্যাস’ বলা যেতে পারে।
অন্যদিকে জনপ্রিয়তার বিড়ম্বনাকেও অস্বীকার করা যায় না। যেমন, বিমল মিত্র ছিলেন শরৎচন্দ্রের পর বাংলায় সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক। তার জনপ্রিয়তা এত বেশি ছিল যে, রাতারাতি কিছু নকল লেখক গজিয়ে ওঠে। অমিতা ভট্টাচার্যের মতে, ‘একশ্রেণির অসাধু প্রকাশক এই নকল বিমল মিত্রদের বই ছাপিয়ে রাতারাতি ধনী হয়ে গিয়েছিল।’ সাহিত্য কখনো ব্যবসাবৃত্তিতে রূপান্তরিত হয়। ব্যবসা সবসময় খারাপ তা নয়, উদ্দেশ্যটাই বিবেচ্য। প্রকাশনা শিল্প তো টিকে থাকে ব্যবসা-সফলতার ওপর। তবে প্রকাশকরা একপেশে ব্যবসানীতি ছেড়ে শিল্পনীতিতে অংশগ্রহণ করলে এ থেকে মুক্তি মেলা সম্ভব। পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থায় পাঠকের রুচি ও চিন্তা নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন লেখক ও প্রকাশক। পাঠাভ্যাস-নিয়ন্ত্রণের রাজনীতিকে তাই অস্বীকার করা চলে না। পাঠক-বিনোদনের সুযোগ ব্যবহার করে পুঁজিবাদী সমাজ তার গোপন উদ্দেশ্য হাসিল করে। জনপ্রিয় সাহিত্য অনেক সময়ই এই পুঁজিবাদী সমাজের কলকাঠি নাড়ার অনুঘটক হয়ে ওঠে। বিশুদ্ধ বিনোদন লক্ষ্য হয়েও, এর অতি-রোমান্টিক নিরুদ্দেশবাদ ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
জনতার সংস্কৃতি ও মনকে ধরতে চায় ‘পপুলার লিটারেচার’। বলা হয় সাধারণত এ ধরনের রচনায় জটিল শৈলী ও কারুকৌশল প্রত্যাশিত নয়। আবার লেখকের নিজের প্রিয় উপন্যাস হলেই পাঠকপ্রিয় হবে এমন কথা নেই। অন্যদিকে অমিয়ভূষণ মজুমদারের গড়শ্রীখণ্ড, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কাঁদো নদী কাঁদো শক্তিশালী লেখা হয়েও পাঠকপ্রিয় উপন্যাসে পরিণত হয়নি। সমরেশ মজুমদারের মতে, তার প্রিয় উপন্যাস (এখনো সময় আছে) নাকি বিক্রি হয়েছে কম। তার মানে জনপ্রিয়তার অন্যসূত্র রয়েছে। তার কথায়, বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে সবসময় তিনি লেখেননি, ‘আমি আমার মতো করে লিখে যাই, পাঠক চাইলে পড়ে আবার রিজেক্টও করে।’
সমরেশের মতে, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসকে মধ্যবিত্তের একটা বোদ্ধা গোষ্ঠী গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ‘ইলিয়াস শ্রদ্ধার সঙ্গে গৃহীত সেই প্রজন্মের কাছে যারা বুদ্ধিজীবী বা বোধসম্পন্ন মানুষ।’ আসলে একটা লেখা ভবিষ্যতে চলবে কিনা বিচার করে কাল। আবার ইলিয়াস আর হুমায়ূন আহমেদকে পাশাপাশি দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে তিনি সচেতন থেকেছেন। লেখা উৎকৃষ্ট শৈলীর হলেই পাঠক দারুণ আগ্রহে পড়বে, ভাবা অসমীচীন। এ প্রসঙ্গে তিনি রবীন্দ্রনাথেরও প্রসঙ্গ টেনেছেন। গোরা শক্তিশালী উপন্যাস হওয়া সত্ত্বেও পাঠক সমাজে জনপ্রিয় হয়নি। গোরাকে সমরেশ মহৎ উপন্যাস হিসেবে উল্লেখ করেন। কিন্তু মানুষ পড়ত শেষের কবিতা। তার মতে, এটা সাজানো বানানো উপন্যাস।
লেখা জনপ্রিয় হওয়ার একটা বড় কারণ প্রাসাদগুণ। ভারতচন্দ্র মধ্যযুগেই উচ্চারণ করেছিলেন, ‘না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল/ অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।’ ভারতচন্দ্র ‘যাবনী মিশাল’ ভাষায় কথা বললেও সাহিত্যগুণকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তার লেখা হয়েছে কালোত্তীর্ণ। কোন লেখা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নির্ভর করে অন্তর্গত সত্যের ওপর। সেখানে সবসময় ভবিষ্যদ্বাণী খাটে না। তারাশঙ্কর বা বিভূতিভূষণের মতো নিজের লেখায় প্রসাদগুণ রয়েছে কিনা এ নিয়ে সমরেশের অস্বস্তি কম ছিল না। তবে পাঠকের সাড়া বা প্রশংসাকে তিনি বেশ আমলে নিয়েছেন। পাঠকের চোখ দিয়ে লেখার আবেদন খুঁজেছেন। তিনি মানতেন, বড় লেখকের লেখা মানেই জনপ্রিয় নয়। ইলিয়াসের চিলেকোঠার সেপাইয়ের বরাত দিয়ে তিনি বলেন : ‘চিলেকোঠার সেপাই একটা বিশাল মিথ পাল্টানোর মতো, তবে এটা সাধারণ মানুষ গ্রহণ করেনি। আপনার আমার বাসার মেয়েরা এই ধরনের উপন্যাস পড়ে না।’
কমলকুমার মজুমদারের লেখা একসময় বোদ্ধাজনকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু তিনিও পাঠকপ্রিয়তা পাননি। অবশ্য কমলকুমার নিজেও তা চাননি। সীমিত সংখ্যক পাঠকেই তুষ্ট থাকার কথা জোর গলায় ঘোষণা করেছিলেন। সমরেশ কমলকুমারের রাস্তা ধরতে চাননি। সেটা তিনি স্পষ্টও করেছেন, ‘আমি কমলকুমারের ভাষা কখনোই গ্রহণ করতে পারিনি। মানুষ সে ভাষায় কথা বলে না।’
সমকালের বিশাল ক্যানভাস, বড়-ছোট প্রচুর চেনাগণ্ডির চরিত্র, সহজ রচনাশৈলী সবকিছু মিলে সমরেশ উপন্যাস জনপ্রিয়। এই জনপ্রিয়তার মনস্তত্ত্ব বোঝা কঠিন নয় সর্বসাধারণের বোধগম্য ভাষা ও পাঠকের সহজ মনোসংযোগ-প্রবণতা। অর্থাৎ তাদের অভিজ্ঞতার জগৎকে, ভাষাকে তাদের উপযোগী করেই তিনি প্রকাশ করতে চেয়েছেন। সবাই পাঠক হয়ে উঠুক বা পাঠকের সংখ্যা বর্ধিত হোক, সেটাও তিনি চেয়েছেন। এতে জনপ্রিয় হওয়ার জাদুর কাঠিটি হয়তো লুকিয়ে আছে। তবে অভিজ্ঞতার সম্প্রসারণ যেকোনো সৃষ্টিশীল লেখকের খুবই প্রয়োজন। নইলে তার লেখা আর কেউ পড়বে না, অতি ব্যবহারে একঘেয়ে ও পুরনো হয়ে যাবে শব্দরাশি, বাক্যবন্ধন। সে জন্য আবার রোজ সকালে উঠে চা খেয়ে লিখতে বসার চাপ থেকে মুক্ত হতে চেয়েছেন সমরেশ। তার মতে,
‘সব রকম পেশায় অবসর আছে। কিন্তু লেখকদের কোনো অবসর নেই। যত তারা বৃদ্ধ হন, ততই অভিজ্ঞতার পুঁজি ফুরোতে থাকে। তবু লেখকরা লিখে যান। ফলে যে লেখা প্রকাশ পায় তা বহু ব্যবহারে জীর্ণ।’