তিনি যেন গানের আকাশে এক ধ্রুবতারা, যার গান এখনও শ্রোতাদের করে তোলে ভীষণ আবেগী। ভালো কথার, মনকাড়া সুরের গানের প্রতি তার অদম্য নেশা। তার মতে, দিন শেষে ভালো গানগুলোই শ্রোতাদের মাঝে দিনের পর দিন, যুগের পর যুগ বেঁচে থাকে।
যে মানুষটি গানে গানে শ্রোতা দর্শকের মন ছুঁয়ে যান, সেই মানুষটিরই জীবন থেকে আরো একটি বছর চলে যাবার দিন আজ। অর্থাৎ আজ বাংলা সংগীতের এ পুরোধার জন্মদিন। ৫৯ বসন্ত পেরিয়ে পা রাখলেন ৬০-এ। জন্মদিন যেখানে অনেকের কাছে উৎসবের, সেখানে জন্মদিন তার কাছে অনেক কষ্টেরও বটে, কারণ জীবন থেকে আরও একটি বছর চলে গেলো। জীবনের এই সময়ে এসে বারবার মনে পড়ে তার চলে যাওয়া বন্ধু, সহযোদ্ধাদের কথা।
এবারের জন্মদিন তার জন্য কিছুটা বিষাদময়। কারণ, একমাত্র ছেলে নিবিড় কুমার প্রায় ৫ মাস ধরে কানাডার টরেন্টোর সেন্ট মাইকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অথচ প্রতিবছর জন্মদিনে বাবাকে চমকে দিতেন ছেলে। ছেলের জন্য কষ্টে দিন কাটছে তার। তাই এবারের জন্মদিনে একমাত্র ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া, ভালোবাসা ও প্রার্থনা চেয়েছেন তিনি।
এই প্রতিবেদককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জন্মদিন প্রসঙ্গে কুমার বিশ্বজিৎ বলেছিলেন, মানুষ আমাকে নি:স্বার্থভাবে এতো ভালোবাসে, অথচ আমার এই সময়ে এসে মনে হচ্ছে আমি কিছুই করতে পারিনি। বারবার আজ মনে হচ্ছে সৃষ্টিশীল মানুষদের তিন জনমের সমান সময় প্রয়োজন এই ধরণীর বুকে। কারণ শৈশব তারপর বেড়ে উঠা, জীবন সাজানো, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য ভাবনা এবং সর্বোপরি জীবনের অনেকটা সময় ঘুমে চলে যাবার কারণে সৃষ্টিশীল কাজ করার সুযোগই তেমন হয়ে উঠেনা।
১৯৬৩ সালের ১ জুন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জন্মগ্রহণ করেন সংগীতের এই পুরোধা। ছেলেবেলা থেকেই গানের আগ্রহ ছিল তার। সেই আগ্রহকে স্বপ্ন ও সাধনা বানিয়ে সংগীত জগতে খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন তিনি। ব্যান্ড মিউজিক দিয়ে চট্টগ্রামে তার পথচলা শুরু। এরপর ঢাকায় এসে থীতু হন একক ক্যারিয়ারে। ১৯৭৭ সালে ‘রিদম ৭৭’ নামে একটি ব্যান্ডে ২ বছর গান করেন। ১৯৭৯ সালে ‘ফিলিংস’ ব্যান্ড গঠন করেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে কুমার বিশ্বজিৎ প্রথম গান করেছিলেন ১৯৮০ সালের দিকে। ‘শিউলিমালা’ অনুষ্ঠানে ১৯৮২ সালে গাওয়া ‘তোরে পুতুলের মতো করে সাজিয়ে’ গানটি তার ক্যারিয়ারে নতুন মাত্রা যোগ করে। গানটি ছড়িয়ে পরে মানুষের মুখে মুখে।
দীর্ঘ চার দশক ধরে তিনি সংগীতাঙ্গনে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। এখনও স্টেজ শো’তে তার কদর চড়া। অসংখ্য জনপ্রিয় গানের পাশাপাশি অর্জন করেছেন তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তার কয়েকটি গান হলো- ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’, ‘ও ডাক্তার’, ‘তুমি যদি বলো’, ‘চন্দনা গো’, ‘তুমি রোজ বিকেলে’, ‘ছোট গল্প’, ‘একতারা বাজাইও না’ ইত্যাদি।