খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট শফিকুল ইসলাম মধু ২২ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
ইশতেহারে সুপেয় পানি সরবরাহ, শিশুবিকাশ কেন্দ্র স্থাপন, অর্থনৈতিক জোন সৃষ্টি, জলাবদ্ধতা দূরীকরণে বিশেষ পদক্ষেপসহ মহানগরীর সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় খুলনা প্রেস ক্লাবের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি।
ইশতেহার ঘোষণাকালে তিনি বলেন, ‘আধুনিক শিশুবিকাশ কেন্দ্র ও শিশুপার্ক স্থাপন করা হবে এবং মেধাবী শিশুদের সম্মাননা দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক চাহিদা অনুযায়ী ট্রেড সেন্টার, কলকারখানা নির্মাণ করে অবহেলিত খালিশপুর, দৌলতপুর ও রূপসা শিল্পাঞ্চলের বেকার শ্রমিক ও শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য কেসিসির তত্ত্বাবধানে আধুনিক অর্থনৈতিক জোন তৈরি করা হবে।’
শফিকুল ইসলাম মধু বলেন, ‘(দক্ষিণ দিকে) কেসিসিকে কৈয়ানদী ও বটিয়াঘাটা নদী পর্যন্ত এবং জলমা আড়ংঘাটা ইউনিয়নে বর্ধিত করে উল্লিখিত এলাকার রাজস্ব আয়ের মাধ্যমে উন্নত নগরব্যবস্থা চালু করা হবে এবং জনগণের চলাচলের জন্য বিশ্বরোডের সঙ্গে একাধিক বাইপাস সড়ক স্থাপন করা হবে।’
ইশতেহারের ২২ দফা হলো শিশুবিকাশ কেন্দ্র স্থাপন; অর্থনৈতিক জোন সৃষ্টি করে বেকারত্ব দূরীকরণ; কেসিসির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা; ওয়াসা, কেডিএ, পেট্রোবাংলা, খুলনা জেলা প্রশাসন, মেট্রোপলিটান ও জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা; কেসিসির সম্প্রসারণ নিশ্চিত করা ও বিশ্বরোডের সঙ্গে শহরের একাধিক বাইপাস রোড নির্মাণ করা; শহরের ২২টি খাল এবং ময়ূর নদী খনন করে নদীকেন্দ্রিক নগরীকে বিনোদনের স্থান হিসেবে গড়ে তোলা; ডিজিটাল নগরী হিসেবে গড়ে তোলা, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা; স্বাস্থ্য উন্নয়নের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; বেকারত্ব দূরীকরণে কর্মমুখী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পাশাপাশি আধুনিক ধর্মীয় শিক্ষালয় গড়ে তোলা; শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, মুক্তিযোদ্ধা ও গুণিজন সম্মাননা প্রদান নিশ্চিত করা; নারীদের উন্নয়নে ব্যবস্থা নেওয়া; নগরবাসীর চলাচল ব্যবস্থার আধুুনিকায়ন; অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা, আধুনিক কসাইখানা স্থাপন, পাবলিক টয়লেট স্থাপন, যাত্রীছাউনি স্থাপন, গ্রিন সিটি ক্লিন সিটি তৈরি, নতুন কবরখানা স্থাপন ও বৈদ্যুতিক চুল্লির শ্মশান স্থাপন; পার্ক ও চিড়িয়াখানা স্থাপন এবং রিসোর্ট সেন্টার স্থাপন।
ইশতেহার ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা এস এম আল জুবায়ের, খুলনা মহানগর সভাপতি অ্যাড. মহানন্দ সরকার, সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শফিকুল ইসলাম ঢালী, মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর প্রমুখ।