বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘২০১৪ ও ২০১৮ সালে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এখন আবার জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সরকার “নির্বাচন-নির্বাচন খেলা” শুরু করেছে। জনগণকে আর ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। না হলে জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে বিদায় করবে।’
গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে ঢাকা মহানগর শ্রমিক দল আয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীদের মিছিল-পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, সীমাহীন দুর্নীতি, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ ও সরকারের পদত্যাগের দাবিতে শ্রমিক-কর্মচারী সমাবেশ ও মিছিল করেছে বিএনপির সহযোগী সংগঠন শ্রমিক দল। জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বৃষ্টিতে ভিজে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এলাকায় জড়ো হন নেতাকর্মীরা। তারা একটি ভ্যানে করে ধানের চারা ও লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে হারিকেন নিয়ে আসেন। তারা খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দি নেতাদের মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন। শ্রমিক দলের মিছিল ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি অফিসের সামনের রাস্তা বন্ধ করে দেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন তারা।
বিকেল সাড়ে ৩টায় বিএনপি কার্র্যালয়ের সামনের সড়কে সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশ শেষে নয়াপল্টন থেকে মিছিল বের হয়ে কাকরাইল মোড় হয়ে শান্তিনগর, মালিবাগ মোড় দিয়ে মগবাজারে গিয়ে শেষ হয়। বৃষ্টিতে ভিজে মিছিলে অংশ নেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান ও আবদুস সালাম। মিছিলে শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা ছাড়াও বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছিলেন।
মিছিলের আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জোর করে ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে। শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ আওয়ামী লীগের লোকজন টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করছে।’
তিনি বলেন, ‘আজ ভোট দেওয়ার অধিকার নেই। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এখন আবার নির্বাচন-নির্বাচন খেলা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। পরিষ্কার করে বলতে চাই, যদি শ্রমিকের অধিকার রক্ষা করতে চাই, জিনিসপত্রের দাম কমাতে চাই, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে চাই, তাহলে প্রয়োজন একটি অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন। কৃষক-শ্রমিক রাস্তায় নেমেছে। এবার তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।’
‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’ স্লোগান ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার সুচিন্তিতভাবে, সচেতনভাবে সাধারণ মানুষের সব অধিকার কেড়ে নিয়েছে। শ্রমিক ভাইয়েরা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত, তাদের কাজের কোনো সংস্থান নেই। অথচ আওয়ামী লীগের সরকারে যারা আছে, তারা লুটতরাজ করে টাকা পাচার করে দিচ্ছে।’
শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করাসহ একটি কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি যে আন্দোলন শুরু করেছে, তাকে চূড়ান্ত পর্যায় নিয়ে যেতে শ্রমিক-কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেইনের সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, আবদুস সালাম আজাদ, কামরুজ্জামান রতন, আমিনুল হক, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির নেতারা।