সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর প্রার্থীর বাসার সামনে সশস্ত্র মহড়ার ঘটনায় ওই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খানকে প্রধান আসামি করা মামলা হয়েছে। আফতাব এবারের নির্বাচনেও কাউন্সিলর প্রার্থী। গত শুক্রবার মধ্যরাতে তাকে ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে নগরীর বিমানবন্দর থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়।
মামলার পর গতকাল শনিবার ভোরে নগরীর বনকলাপাড়া ও হাজীপাড়ায় অভিযান চালিয়ে সশস্ত্র ওই মহড়ায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরা হলেন বনকলাপাড়ার জুবের আহমদ (৩৫), আতিকুর রহমান (৪০) ও হাজীপাড়ার মো. নুরুজ্জামান (৩৪)। সশস্ত্র মহড়ার ভিডিওচিত্র দেখে তাদের চিহ্নিত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) সুদীপ দাস জানান, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সায়ীদ আবদুল্লাহ তার বাসার সামনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আফতাব দলবল নিয়ে মহড়া দিয়েছেন বলে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে গত শুক্রবার বিকেলে অভিযোগ দেন। এই অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের কাছে পাঠান রিটার্নিং কর্মকর্তা। এরপর শুক্রবার মধ্যরাতে আফতাব খানকে প্রধান আসামি করে বিমানবন্দর থানায় মামলা রেকর্ড হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। মামলার এজাহারে ত্রাস সৃষ্টি করে ভয়ভীতি ছড়ানোসহ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সায়ীদ আবদুল্লাহ তার লিখিত অভিযোগে বলেছেন, একই ওয়ার্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আফতাব হোসেন খান তাকে নির্বাচন থেকে সরানোর জন্য ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। এজন্য গত মঙ্গলবার সকালে আফতাব খানের নেতৃত্বে ১০-১২টি মোটরসাইকেলে ২০-২৫ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তার বাসার সামনে গিয়ে মহড়া দেয়। তারা সায়ীদ আবদুল্লাহর বাসার প্রধান ফটকে অস্ত্র তাক করে গালাগাল ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত এই মহড়ার ভিডিওচিত্র গত শুক্রবার ফেসবুক ও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়।
আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠেয় সিসিক নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে তিনজন প্রার্থী হয়েছেন। তারা হলেনÑ বর্তমান কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান, সায়ীদ আবদুল্লাহ ও জাহিদ খান সায়েক।