জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে এক পুলিশ সদস্যকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।এ সময় তার কাছ থেকে অবৈধ ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করা হয়।
ওই পুলিশ সদস্যকে আটক করায় তার ছোটভাই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কৃত হওয়া আইন ও বিচার বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমরুল হাসান অমি শিক্ষার্থীদের কুপিয়ে মারার হুমকি দেন। এছাড়া পুলিশ সদস্যকে নিতে এসে আশুলিয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবজালনুর ঔদ্ধত্য আচরণ করেন।
রোববার (১১ জুন) রাত সোয়া ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন বোটানিক্যাল গার্ডেনের সামনের সড়কে এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মো. মেহমুদ হারুন। তিনি নারায়ণগঞ্জ পুলিশ লাইন্সের এসএএফ এর কনস্টেবল পদে কর্মরত ও সাভার রাজাশন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেনের সামনের সড়কে রাত সোয়া ১০টার দিকে এক নারী শিক্ষার্থীকে পথ আটকায় ওই পুলিশ সদস্য ও তার বন্ধু বিদ্যুৎ চৌধুরী। এ সময় তারা ওই শিক্ষার্থীকে বাগানে গিয়ে নিরিবিলি সময় কাটানোর কুপ্রস্তাব দেয়। ওই শিক্ষার্থী যেতে রাজি না হলে তার মোবাইল নম্বর দিতে জোরজবরদস্তি করে। এক পর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী রিকশায় উঠে চলে যেতে চাইলে তারা পথ আটকিয়ে আবারও মোবাইল নম্বর নিতে জোর করে। এ সময় তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়।
পরবর্তীতে ওই শিক্ষার্থী মীর মশাররফ হোসেন হলের তার বন্ধুদের মুঠোফোনে জানালে তারা এসে পুলিশ সদস্য মেহমুদ হারুনকে আটক করে। তবে অন্যজন পালিয়ে যায়। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে আটক ওই পুলিশ সদস্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার কাছে তুলে দেন শিক্ষার্থীরা।
আটক মেহমুদ হারুন বলেন, আমি পুলিশে চাকরি করি, ছুটিতে বাড়িতে এসেছি। জাহাঙ্গীরনগরে ঘুরতে আসছিলাম এলাকার এক ছোট ভাইকে নিয়ে। আমি কিছু করিনি, শুধু ফোন নম্বর চেয়েছিলাম। বাকি সবকিছু আমার সঙ্গে থাকা ওই ছোট ভাই করেছে। সে পালিয়ে গেছে।
এরপর রাত সাড়ে ১১টার দিকে খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার চার থেকে পাঁচজন কর্মরত পুলিশ সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবজালনুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার প্রধানের সঙ্গে ঔদ্ধ্যত আচরণ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করে কথা বলেন।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পুলিশ সদস্য আবজালনুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গাড়িতে করে পালিয়ে যান। এ সময় ওই পুলিশ সদস্যের ছোট ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের বহিষ্কৃত (এক ঘটনায় তিনি সাময়িক বহিষ্কার আছেন) শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা ইমরুল হাসান অমি শিক্ষার্থীদেরকে কুপিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেন।
পরে রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অভিযুক্ত মেহমুদ পুলিশের সদস্য। তিনি যে হ্যান্ডকাফ এবং ওয়াকিটকি বহন করছেন তা অবৈধ। হারুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের অভিযোগের প্রেক্ষিতেও ফৌজদারি মামলা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার প্রধান কর্মকর্তার সঙ্গে ঔদ্ধত্য আচরণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করে কথা বলা এসআই আবজালনুরকে আশুলিয়া থানা থেকে প্রত্যাহার করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন বলেন, শিক্ষার্থীরা ওই ঘটনা আমাদের জানালে আমরা ৮ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে আমাদের হাতে তুলে দেয়। আমরা তার কাছ থেকে অবৈধ হ্যান্ডকাফ এবং ওয়াকিটকি উদ্ধার করতে পেরেছি। তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে মামলা করা হবে।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মওদুদ আহমেদ বলেন, আমরা অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করবে। আর বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী ইমরুল হাসান অমি যাতে হলে না থাকতে পারে সে বিষয়ে তার হলের প্রশাসনকে অবিহিত করব।