হোর্হে লুইস বোর্হেসের কবিতা

আর্হেন্তিনার স্বনামধন্য কবি, প্রাবন্ধিক ও গল্পকার হোর্হে লুই বোর্হেস। জন্ম ২৪ আগস্ট ১৮৯৯ সালে, আর মৃত্যুবরণ করেন ১৯৮৬ সালের ১৪ জুন। বিশ্বব্যাপী তার মূল পরিচয় গল্পকার হিসেবে ছড়িয়ে পড়লেও, তার আত্মপ্রকাশ প্রথমত কবিতা দিয়েই। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালে। এর পরও তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আরও অন্তত ১০টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেছেন। এ বছর তার প্রথম কাব্যগ্রন্থের শতবর্ষ পূর্ণ হবে। একদিকে তার প্রথম গ্রন্থের শতবর্ষ পূরণ, অন্যদিকে তার প্রয়াণ দিবস। এই মহান লেখকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ প্রকাশিত হলো তার একটি কবিতা। কবিতাটি স্প্যানিশ থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন স্প্যানিশ সাহিত্য ও বোর্হেস-বিশেষজ্ঞ রাজু আলাউদ্দিন। Ñধ্রুপদি সম্পাদক        

ভেতরে প্রবেশ করে আলো আর আমি জেগে উঠি; ওই তো ওখানে সে।

কথা বলতে শুরু করে তার নাম-পরিচয় দিয়ে, যা আমার অবশ্যই নিজেরই সে নাম।

ফিরে আসি গোলামির সে-দিনগুলোয়, যা কিনা দশকব্যাপী বিদ্যমান ছিল সাতবার।

চাপিয়ে দিয়েছে তার স্মৃতিগুচ্ছ আমার ওপর।

প্রতিটি দিনের সব আলিজালি, মানবীয় পরিস্থিতি চাপায় সে আমার ওপর।  

আমি তার পুরনো সেবক; আমাকে সে বাধ্য করে পা দুখানি ধুয়ে দিতে তার।

আমার জন্য সে আয়নায়, মেহগনি কাঠে আর দোকানের কাঁচের শোকেসে অপেক্ষা করে।

কোনো কোনো নারী তাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল, আমি তার বেদনার ভার বয়ে যাবো।

এখন এই কবিতাটি লিখিয়ে নিচ্ছে, যা আমার পছন্দ নয়।

আমাকে সে বাধ্য করে নাছোড় অ্যাংলোস্যাক্সনের অস্পষ্ট তালিম গ্রহণে।

আমাকে সে বানিয়েছে মৃত সেনাদের এক অন্ধ পূজারী, যাদের সঙ্গে কোনো বাৎচিত সম্ভব নয়।

সিঁড়ির অন্তিম ধাপে মনে হয় সে আমার পাশেই রয়েছে।

সে আমার প্রতি পদে, আমার কণ্ঠস্বরে আছে।

আমি তার সবকিছু ঘৃণা করি।

জেনে খুব ভালো লাগে দুচোখে সে দেখে না কিছুই।

আমি এক চক্রাকার প্রকোষ্ঠে আর অনন্ত দেয়াল ক্রমে প্রসারিত হয়।

যদিও করে না তারা প্রতারিত একে অন্যকে, কিন্তু মিথ্যাচার দুজনেই করি।

একে অন্যকে চিনি ঘনিষ্ঠভাবে, অবিচ্ছেদ্য সহোদর আমরা দুজন।

আমার পাত্র থেকে পান কর জল আর খাচ্ছ তুমি আমার খাবার।

আত্মহননের দ্বার খোলা আছে, কিন্তু ধর্মতাত্ত্বিকরা বলেন যে

আমার জন্য প্রতীক্ষিত অন্য এক রাজত্বের অতি দূর ছায়ার ভেতরে থাকবো আমি।