সারা দেশে দায়ের করা মামলার ৯২ শতাংশের ক্ষেত্রে অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও ১৭ শতাংশের ক্ষেত্রে সাজা হয়েছে। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থাপিত পুলিশের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির আগের বৈঠকে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে র্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন বলেন, ‘নওগাঁর জেসমিন ‘হত্যাকাণ্ডে’ দেশ, সরকার ও বাহিনীর ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত বৈঠকের কার্যবিবরণীতে এ বিষয়টি তুলে ধরা হয় এবং তা অনুমোদন দেওয়া হয়।
আগের বৈঠকে অতিরিক্ত আইজিপি মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, পুলিশের পদ সংখ্যা ২ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৪টি। সারা দেশে ২০২২ সালে অপরাধ খাতে করা মামলা ২ লাখ ৪ হাজার ২৩৪টি। ৯২ শতাংশ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। সাজার হার কমে বর্তমানে ১৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পুলিশের যানবাহন প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে জানান এই অতিরিক্ত আইজিপি।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, নিরাপদ খাদ্য আইন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ, পানি আইনসহ আরও কিছু আইনে পুলিশকে সংশ্লিষ্ট করা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
দেশের বাইরে দেশবিরোধী প্রোপাগান্ডা ও চক্রান্তকারীদের মোকাবিলায় প্রবাসীদের সহায়তা প্রদানের জন্য দূতাবাসগুলোতে পুলিশ অফিসাদের পদায়ন করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।
জেসমিন সুলতানার (নওগাঁয় র্যাবের হেফাজতে মৃত্যু) বিষয়টি খুবই বিব্রতকর বলে ওই বৈঠকে অভিযোগ করেন কমিটির সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।
পীর ফজলুর রহমান বলেন, ‘অনলাইন জুয়ার কারণে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। অনেক পরিবারে বিপর্যয় নেমে আসছে। অনলাইন জুয়ার সাইটগুলো বন্ধ করা যাচ্ছে না।’ নওগাঁর জেসমিন সুলতানার মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘র্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হয়তো আন্তরিক, কিন্তু প্রান্তিক পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে অতিউৎসাহ। একজন অফিসারের নির্দেশনায় এই ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে। মামলা হয়েছে তাও তার মৃত্যুর পরে। এ ধরনের ঘটনা শেষ সময়ে সরকারের অনেক অর্জনকে মøান করে দিচ্ছে।’
ওই বৈঠকে র্যাবের মহাপরিচালক নিজ বাহিনীর হেফাজতে নওগাঁর জেসমিন সুলতানার মৃত্যুর ঘটনাকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেন বলে কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, “নওগাঁর জেসমিন ‘হত্যাকাণ্ডে’ দেশ, সরকার ও বাহিনীর ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাজটি করা হয়েছে ক্যাম্প থেকে। ব্যাটালিয়ন বা হেডকোয়ার্টার এ বিষয়ে কিছুই জানত না। এ ঘটনায় অপরাধ যেই করুক না কেন, প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যক্তির দায় বহন করবে না। সরকারও কোনো দায় নেবে না। যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যে যুগ্ম সচিবের প্রসঙ্গ এসেছে, তার ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে তাকে হয়রানি করা হয়েছে। দুই বছর আগে যুগ্ম সচিব ওই নারীর বিরুদ্ধে দুটি জিডি করেছেন।”
জেসমিন সুলতানার মৃত্যু প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি বেনজীর আহমদ বলেন, ‘র্যাবের বিরুদ্ধে স্যাংশন জারি হওয়ার কারণে এমনিতেই বিব্রতকর অবস্থা। যার যে দায়িত্ব তা যথাযথ সময়ে পালন করলে এত সমস্যা তৈরি হতো না।’ তিনি সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান আশ্বস্ত করে বলেন, ‘নওগাঁর ঘটনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কমিটির সভাপতি বেনজীর আহমদের সভাপতিত্বে গতকালের বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, মো. হাবিবর রহমান, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পীর ফজলুর রহমান, নূর মোহাম্মদ, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ এবং ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল অংশগ্রহণ করেন।