জানালেন ডা. জাহিদ

পরীক্ষা শেষে বলা যাবে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাসপাতাল গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এগুলোর রিপোর্ট পাওয়ার আগে তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলা যাচ্ছে না। গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা বলেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। জাহিদ হোসেন বলেন, ‘গত সোমবার দিনের বেলায় খালেদা জিয়ার শারীরিক তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে যায়। একইসঙ্গে তার পেটে ব্যথাও দেখা দেয়। পরে দলের গঠিত মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শে গভীর রাতে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাপমাত্রা বাড়া ও ব্যথার কারণ খুঁজে বের করার জন্য চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন।’

গত মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক পদযাত্রা কর্মসূচি উদ্বোধনপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি  চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। এ জন্য তাকে গত সোমবার মধ্যরাতে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে।’ 

গত ২৯ এপ্রিল নিয়মিত চেকআপের জন্য খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি হন। পাঁচদিন হাসপাতালে রেখে তার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাকে ফিরোজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি জটিলতা ও লিভারের  রোগ, হৃদরোগে ভুগছেন। ২০২১ সালের এপ্রিলে কভিডে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে কয়েকবার নানা অসুস্থতা নিয়ে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। গত বছর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ ও লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকরা।

দুর্নীতির মামলায় দন্ডিত হয়ে ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাগারে গিয়েছিলেন। দেশে করোনা মহামারী শুরুর পর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে তার সাজা স্থগিত করে। বর্তমানে সপ্তম দফায় তার দন্ডাদেশ স্থগিত রয়েছে।