মাছ-মুরগি কেজিতে বেড়েছে ২০-২৫ টাকা

প্রতিদিনই বাজারে বাড়ছে কোনো কোনো পণ্যের দাম। বাজারের সিন্ডিকেট, প্রয়োজনীয় মনিটরিংয়ের অভাব ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকা ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া। ফলে বাজারে নিম্ন আয়ের মানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে লেয়ার ও সোনালি মুরগির কেজিপ্রতি ২০-২৫ টাকা বেড়েছে। মাছের বাজারেও একই পরিস্থিতি। সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে গড়ে কেজিপ্রতি ২০ টাকা। এ ছাড়া সবজির বাজারে গিয়েও তেমন সুসংবাদ মেলেনি। ঢেঁড়স, কাঁচা মরিচ ও পেঁপের দাম কিছুটা কমেছে। বাকি সব সবজির দাম অপরিবর্তিত।

পাইকার ও খুচরা বাজার ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে সরবরাহ ভালো না থাকায় মাছের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে মুরগির খাদ্যের মূল্য চড়া হওয়ায় মুরগির দামও হু হু করে বাড়ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর শান্তিনগর বাজার, নিউমার্কেট কাঁচাবাজার ও মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪২০-৪৪০ টাকায়, যা গত সপ্তাহেও ৪০০-৪২০ টাকা ছিল। পাবদা ৩৫০-৫০০ টাকা, নলা ২২০, মান অনুযায়ী প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২৩০-২৪০, পাঙাশ ২১০-২২০, শিং ৪০০-৫৩০ ও চাষের কই ৩২০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শান্তিনগর বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আসিফ বলেন, বাজারে মাছের সরবরাহ ভালো না থাকায় সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। বাজারে নিয়মিত যেসব মাছ আসে তার মধ্যে রুই মাছের দাম সব থেকে বেশি বেড়েছে।

এদিকে মুরগি ও ডিমের বাজার ঘুরে দেখা যায়, দাম অপরিবর্তিত থেকে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। কেজিতে ২০-২৫ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩২০ টাকায়, লেয়ার ৩৩০-৩৫০ টাকায় বিক্রি করছেন মুরগি ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া গরুর মাংস ৭৫০-৮০০ টাকা ও খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। অন্যদিকে পাইকারি বাজারে ডিমের ডজনপ্রতি বেড়েছে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা, যা খুচরা বাজারে ১৪৫-১৪৮ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মোহাম্মদপুর টাউন হলের মাংস বিক্রেতারা জানান, মুরগির বাজার ওঠানামার মধ্যে থাকে। এ ছাড়া খাদ্যের সঙ্গে মুরগির সম্পৃক্ততা রয়েছে। খাদ্যের দাম বাড়তি থাকায় মুরগির দামও বাড়ছে। লেয়ার মুরগির সঙ্গে ডিমের সম্পর্ক রয়েছে। যেহেতু ডিম উৎপাদন করতে মুরগির জন্য খাদ্যের প্রয়োজন, তাই মুরগির দামের সঙ্গে ডিমের দামও বাড়ে।

সবজির বাজারে সরবরাহ ঘাটতি নেই। তবুও ব্যবসায়ীদের অজুহাতের যেন শেষ নেই। সরবরাহ সংকট দেখিয়ে আগের মতো চড়া দামে সবজি বিক্রি করতে দেখা যায় ব্যবসায়ীদের। গত সপ্তাহে ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ কেজিতে ২০ টাকা কমেছে। পেঁপে ও ঢেঁড়স কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকায়, ১০ টাকা কমে প্রতি কেজি ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য সবজি আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি বরবটি ৫৫-৬০ টাকা, পটোল ৫০, বেগুন ৬০-৮০, প্রতি পিস লাউ ৫০-৬০ টাকা করে কিনতে দেখা গিয়েছে সাধারণ ভোক্তাদের।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে বিলকিস আক্তার নামে এক ক্রেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাজারে সব পণ্যে সরবরাহ ঠিক রয়েছে। ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারণে সবকিছু আমাদের বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। দিন দিন খরচ বাড়ছে। সামনের দিনগুলো খুব অন্ধকারেই কাটাতে হবে।