বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কারচুপি করতে সরকার ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে এখন থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন সাজানো শুরু করেছে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক ফোরামের উদ্যোগে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য অতীতে ফেরাউন, নমরুদ ও স্বৈরাচারী এরশাদও অনৈতিক পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু ইতিহাস বলে তারা সফল হননি। শেষ হাসিনাও সফল হবেন না। কারণ ইতিমধ্যে জনগণ রাস্তায় নেমে গেছে। গত বুধবার চট্টগ্রামে তারুণ্যের সমাবেশে উত্তাল তরঙ্গের মতো ঝড়-তরঙ্গ সৃষ্টি হয়েছিল। একইভাবে সারা দেশে একই ঝড়-তরঙ্গ সৃষ্টি হবে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, মানুষের স্বাধীনতা, ভোটের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে রাজপথে নেমে আসি।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে সরকার ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট’ প্রয়োগ করছে। আজ আওয়ামী লীগের যে বডি কেমিস্ট্রি সেই বডি কেমিস্ট্রিতে তারা কখনোই ভিন্নমত সহ্য করতে পারেনি। আপনি কোথাও গেলে সহজেই চিনতে পারবেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। তারা জোরে জোরে কথা বলে, টেবিল চাপড়াবে। পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে যাবেন, আদালতের কাছে যাবেন বিচার পাবেন না। আজ আওয়ামী লীগ দেশের জনগণের কাছে একটি গালিতে পরিণত হয়েছে।
১৯৭৫ সালের ১৬ জুন চারটি পত্রিকা রেখে বাকিগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এ জন্য সাংবাদিকদের একটি অংশ দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক ফোরামের আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন ঠাকুরের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর শিকদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সাংবাদিক নেতা এম এ আজিজ, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন, সদস্য কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ।
বিএনপিকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগকে ব্যবহার করছে সরকার : গতকাল বিকেলে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, ‘নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে সারা দেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, রাজনীতি থেকে বিএনপিকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগকে ব্যবহার করছে সরকার। উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে খুন-হত্যা-মিথ্যা মামলায় নেতাকর্মীদের কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। সম্প্রতি নরসিংদীতে একটি চক্রান্তমূলক হত্যাকা- ঘটিয়ে ডাকসুর সাবেক জিএস ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সাবেক সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনকে এবং তার সহধর্মিণীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া এ মামলায় বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’