সিলেটে ৪.৫ মাত্রার ভূমিকম্প কাঁপল ঢাকাও

৪০ দিনের ব্যবধানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে এ মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫। এর আগে গত ৫ মে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ৪ দশমিক ৩ মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছিল।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গতকাল সকাল ১০টা ৪৬ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল সিলেটের গোলাপগঞ্জ, যা ঢাকা ভূমিকম্প সেন্টার থেকে ২০২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বদিকে। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল সিলেট শহর থেকে ২৩.৮ কিলোমটার দক্ষিণ-পূর্বে, মৌলভীবাজার থেকে ৪০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে, ভারতের আসামের করিমগঞ্জ থেকে ৩৪.৩ কিলোমিটার পশ্চিম দক্ষিণ-পশ্চিমে। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।

এ ধরনের ভূমিকম্প হওয়াটাই স্বাভাবিক বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন ও ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এটি খুবই সাধারণ বিষয়। বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকার কাছে অবস্থিত। ইতিহাসে যদি আমরা দেখি এখানে অসংখ্যবার ছোটখাটো ভূমিকম্প প্রায়ই হয়েছে। আজকে যে ভূমিকম্পটা হলো এটা একটু বড় আকারে। ৩ বা ৪ মাত্রায় হলে মানুষ অনুভব করতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উত্তর বা পূর্বাঞ্চলে চারের ওপরে ভূমিকম্প কয়েক দিন পরপরই হয়। কারণ হিসেবে আমরা বলি এখানে টেকটোনিক প্লেটের বাউন্ডারি রয়েছে। এটি ইউরেশিয়ান প্লেট ও ইন্ডিয়ান প্লেটের বাউন্ডারি। উত্তরে বাউন্ডারি আছে এবং পূর্বে বাউন্ডারি আছে। এজন্য এখানে ভূমিকম্প হওয়াটাই স্বাভাবিক।’

এ বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘যেহেতু আমরা ঢাকার আশপাশে ভূকম্পন অনুভব করেছি, এটাকে বলি আমরা লং পিরিয়ড ওয়েভ। এ ধরনের ভূমিকম্প অনেক দূর থেকে রেকর্ড করা যায়। অন্যদিকে ক্ষণস্থায়ী যে ওয়েভ সেগুলো উৎপত্তিস্থলেই শক্তিটা শেষ হয়ে যায়। এটা আর এগোতে পারে না। আর যেটা দীর্ঘস্থায়ী কম্পন সেটা অনেক নিচ দিয়ে আসে, ফলে ঢাকা বা তার আশপাশ থেকেও অনুভব করা যায়।’

ড. জিল্লুর রহমান বলেন, ৪.৫ মাত্রার ওপরে যে ভূমিকম্পগুলো হয় তাতে আশপাশের এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার ৬.৫-এর ওপরে উঠলে ভূমিতে ফাটলও দেখা দেয়। সব ধরনের ভূমিকম্পে কিন্তু ভূ-অভ্যন্তরে ফাটল তৈরি হয়। ছোট ভূমিকম্পের ফাটল ওপরে আসে না। যদি ৬-এর ওপরে হয়, তাহলে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে ফাটল রেখা তৈরি হয়।’

এই মুহূর্তে আতঙ্কের কারণ না থাকলেও বড় ধরনের ঝুঁকিতে দেশ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ভূমিকম্প প্রতিনিয়ত হচ্ছে। তবে ৬ মাত্রার ওপরে হলে আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কারণ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে আমাদের স্থাপনা বা বড় বড় ভবন নির্মাণ করেছি, তার অনেকাংশ কিন্তু ভূমিকম্প সহনীয় না। এজন্য আমাদের ঝুঁকি বেশি। তাই সর্বদা আমাদের পূর্বপ্রস্তুতি রাখতে হবে। নতুন নতুন অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে আরও বেশি সচেতন হতে হবে।’