চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে আসার পথে প্রতিপক্ষের গুলিতে এক আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বিকেলে উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোবারক হোসেন বাবু (৪৮) ওই গ্রামের আবুল ব্যাপারীর ছেলে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ জহির (২০) ও ইমন (১৮) নামের দুই যুবককে ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়েছে এবং মো. জহির (৩২) ও বিলকিছ (৩৫) নামের আহত অপর দুই ব্যক্তি চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কাজী মিজানের কর্মী-সমর্থকেরা এই হামলার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনরা।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের ভাই আমির হোসেন কালু জানান, সমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য তারা বাহাদুরপুর থেকে রওনা হন। এ সময় মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যানের কর্মী-সমর্থকেরা তাদের ওপর অতর্কিতভাবে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে তার ভাই মোবারকসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে মতলব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার ভাইকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানতে চাইলে মোহনপুর ইউপি চেয়ারম্যান কাজী মিজান বলেন, ‘যাদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে উভয় পক্ষ আগে থেকেই বিবাদে জড়িত ছিল। আজকে (শনিবার) প্রাধান্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কে কার অনুসারী তা তো বলতে পারব না।’
মতলব উত্তর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও মো. হাসিবুল ইসলাম বলেন, মোবারক হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তার শরীরে আঘাতের চিহ্নগুলো গুলির।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় বলেন, এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে রাজনৈতিক কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে।
কালিয়াকৈরে আ.লীগের দুই গ্রুপের হামলায় আহত ১০ : গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বিকেলে বোর্ডমিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী ও আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মী সূত্রে জানা গেছে, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাসেল কিছুদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক শুরু করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল বিকেলে উপজেলার পূর্বচান্দরা বোর্ডমিল এলাকায় ঈদগাহ মাঠে উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে রেজাউল করিম ও তার অনুসারীরা পৌঁছে দেখতে পান মাঠে তালা ঝোলানো। এ সময় সেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলামের লোকজন পৌঁছালে দুই গ্রুপের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর গতকাল সন্ধ্যায় দুই গ্রুপের নেতাকর্মীরা পৃথক বিক্ষোভ মিছিল করেন।
রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রচার করছি। তারপরও কেন আওয়ামী লীগের আরেকটি পক্ষ আমাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। সেটি নিজেও বুঝতে পারছি না।’
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি এলাকায় ছিলাম না। তবে জানতে পেরেছি তিনি (রেজাউল করিম) স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের না জানিয়ে বৈঠক করতে যাওয়ায় তাদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।’
কালিয়াকৈর থানার ওসি আকবর আলী খান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাগেরহাটে আ.লীগ নেতা খুন : বাগেরহাটে মাছের ঘের নিয়ে বিরোধের জেরে সন্ত্রাসী হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা আনারুল শেখ (৫৫) ওরফে আনা নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বিকেলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এর আগে গতকাল দুপুর ১টার দিকে বৈটপুর এলাকায় ঘের থেকে ফেরার পথে পিরোজপুর-বাগেরহাট মহাসড়কের সদর উপজেলার মেরিন ইনস্টিটিউটের সামনে লোহার রড ও লাঠিসোঁটা দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আনারুল শেখের ওপর হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বাগেরহাট পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বশিরুল ইসলাম বলেন, ‘নিহত আনারুল শেখ দলের একজন নিবেদিত নেতা ছিলেন। তিনি পৌর সভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। তাকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই।’
নিহত আনারুল শেখ বাগেরহাট পৌর শহরের বাসাবাটি এলাকার প্রয়াত আব্দুল গনি শেখের ছেলে। তিনি বাগেরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন।
ভাতিজা মুরাদ শেখ অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের বাগেরহাট সদর উপজেলার বৈটপুর এলাকায় ২১ বিঘার একটি মাছের ঘের রয়েছে। শনিবার সকালে আমার ছোট চাচা আনারুল শেখ মাছের ঘেরে গিয়ে দেখেন কিছু লোক ঘেরে নেমে মাছ ধরছে। তাদের মাছ ধরতে নিষেধ করলে তারা আমার চাচাকে গালাগালি করতে থাকে। তিনি এই কথা আমাকে ফোনে জানালে আমি তাকে ঘের থেকে বাড়ি ফিরে আসতে বলি। এর কিছুক্ষণ পরে পরিচিত কয়েকজন আমার চাচাকে মেরিন ইনস্টিটিউটের সামনে লোহার রড, হাতুড়ি এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে আহত করে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।’
বাগেরহাট মডেল থানার ওসি কে এম আজিজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এই হত্যার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের নাম-পরিচয় আমরা জানতে পেরেছি। তাদের ধরতে পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নেমেছে। শিগগির তাদের গ্রেপ্তার করে আইনে আওতায় আনার আশ্বাস দেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
প্রতিবেদনটি তৈরি বাগেরহাট, চাঁদপুর ও কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধির তথ্যে