তিন ইস্যুতে উত্তপ্ত চট্টগ্রামের রাজপথ

বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও ছবি ভাঙচুর, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও বরিশালে চরমোনাই পীরের ওপর হামলা এই তিন ইস্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের রাজপথ। এসব ইস্যুকে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে নাসিমন ভবনের দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে মহানগর বিএনপি।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন বলেন, গত বুধবার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত তারুণ্যের সমাবেশ থেকে সরকার ও দলীয় প্রশাসনের কিছু অতি-উৎসাহী কর্মকর্তা বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দিয়ে বাসাবাড়িতে ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের হেনস্তা করার ঘৃণ্য খেলায় মেতে উঠেছে। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় সে নির্বাচনে যাতে বিএনপি অংশগ্রহণ করতে না পারে, সেজন্য নেতাকর্মীদের নামে আবারও হামলা-মামলা দিয়ে হয়রানি শুরু করেছে। বিদেশে চিকিৎসারত ও কারাগারে থাকা নেতাকর্মীদের ম্যুরাল ভাঙচুর মামলায় আসামি করা হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল আয়োজিত ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ কর্মসূচিতে আসার পথে চট্টগ্রাম কলেজের সামনে যুবদল কর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগকর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। এর জের ধরে নগরীর জামালখান এলাকায় দেয়ালে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, ছবি ও স্ট্যাম্পার্ড গ্লাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নগরীর কোতোয়ালি ও চকবাজার থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়। মামলা দুটিতে যুবদল-ছাত্রদলের বেশ কিছু নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তবে ম্যুরাল ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপি কিংবা অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়িত নন দাবি করে বিএনপি নেতারা বলছেন, যেসব নেতাকর্মীর নামে মামলা দেওয়া হয়েছে তাদের কেউ সেখানে ছিলেন না। ওই সময়ের ভিডিও ফুটেজে তা স্পষ্ট দেখা যায়।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি সভাপতি শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘গত বুধবার আমরা তারুণ্যের সমাবেশ করেছি। সে সমাবেশে নানা জায়গা থেকে নেতাকর্মীরা যোগ দিতে এসেছিলেন। কিন্তু চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজ, জামালখানের সামনে যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ক্যাডাররা কেন দাঁড়িয়েছিল? ওটা তো তাদের সমাবেশ ছিল না। আমরা সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছি। আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছে, ঢিল মারা হয়েছে, লাঠিপেটা করে আঘাত করা হয়েছে। যুবলীগের দুই গ্রুপের নেতাদের অস্ত্রের মহড়া হয়েছে। তারা সেখানে জামালখান এলাকায় দেয়াল ভাঙচুর করেছে।’ এ ঘটনা কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলা বন্ধ না করলে হরতালের মতো কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলে জানান তিনি।

এদিকে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ও ছবি ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক মাঠে নামে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। দুদিন ধরে বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন তারা। এ ধরনের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবির পাশাপাশি এদের সামাজিকভাবে প্রতিহত করারও ডাক দেওয়া হয় এসব কর্মসূচি থেকে। মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ, অপরাজেয় বাংলা, আমরা করব জয়সহ বিভিন্ন সংগঠন গত শুক্রবার নগরীর জামালখান এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মহানগর আওয়ামী লীগ বিক্ষোভ কর্মসূচি দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিরাজমান শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সহাবস্থান চলাকালে এ ধরনের ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিকৃত মানসিকতা প্রসূত বলে আমরা মনে করি।’ এ ঘটনায় শিগগিরই বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে চরমোনাই পীর সৈয়দ মোহাম্মাদ ফয়জুল করীমের ওপর হামলার প্রতিবাদে গত শুক্রবার বাদ জুমা নগরীর কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা। এ সময় নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ থেকে একটি মিছিল শুরু হয়ে আগ্রাবাদ মোড় ঘুরে দেওয়ান হাট মোড়ে এসে রাস্তার ওপর প্রতিবাদ সমাবেশ করে। সমাবেশের কারণে এ সময় দেওয়ানহাটমুখী সড়কগুলোকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। সমাবেশ থেকে চরমোনাই পীরের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেওয়া হয়।