যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসী ঠেকাতে অভিযানে সুনাক

যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চলছে অভিযান। এ রকমই একটি অভিযানে অংশ নিয়েছেন খোদ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। দেশটির অভিবাসন কর্মকর্তা এবং পুলিশের সঙ্গে লন্ডনের এক অভিযানে অংশ নেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে সদ্য প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, পুলিশ ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাস্তায় হাস্যোজ্জ্বল সুনাক, তার পরনে সাদা শার্ট এবং কালো রঙের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট। এ অভিযান নিয়ে টুইটারে ঋষি সুনাক বলেন, ‘এ দেশে কে আসবে তা নির্ধারণ করবে রাষ্ট্র, কোনো অপরাধীচক্র নয়, স্পষ্টভাবে এই বার্তা দিতে বৃহস্পতিবার আমি অভিবাসনবিষয়ক আইনপ্রয়োগকারীদের সঙ্গে অবৈধ কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিয়েছি।’

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অবৈধ অভিবাসন এবং নৌপথে অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ ঠেকাতে আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ এই অভিযান।’

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বার্মিংহাম মেইল জানায়, গত ১৫ জুন সুনাক উত্তর লন্ডনের ব্রেন্টের এক অভিযানে অংশ নেন। সেই অভিযানে ব্রিটেনের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ দেশের ১০৫ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। রেস্তোরাঁ, কারওয়াশ, সেলুন এবং মুদি দোকানের মতো জায়গায় অবৈধভাবে কাজ করা এবং জাল কাগজপত্র রাখার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

অভিযান নিয়ে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রাভারম্যান বলেন, ‘অবৈধ কর্মীরা আমাদের সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, সৎ-যোগ্য কর্মীদের চাকরির জায়গা নষ্ট করছে। তারা কোনো কর দেয় না, এতে সরকারের তহবিল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের সীমান্ত আইনের লঙ্ঘন বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা জানি, অবৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে, এই আশা নিয়েই বিপজ্জনক যাত্রায় যুক্তরাজ্যে আসছে অবৈধ অভিবাসীরা। এই অভিযানগুলো তাদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা যে আমরা তাদের পক্ষে নাই।’ 

১৫ জুন আটকদের মধ্যে ৪০ জনকে যুক্তরাজ্য থেকে বের করে দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই অভিযানের ফলে অবৈধ অভিবাসীদের অনেকে স্বেচ্ছায় যুক্তরাজ্য ত্যাগ করবে। বিপজ্জনকভাবে যুক্তরাজ্যে আসতে অনুৎসাহিত করবে।

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে যখন টালমাটাল পরিস্থিতি চলছে তখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের হাল ধরেন কনজারভেটিভ নেতা ঋষি সুনাক। তার অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল অবৈধ অভিবাসীদের ব্যাপারে কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করছেন তিনি। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন কর্মকর্তারা ১৩০৩টি অভিযান চালায়, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৭ শতাংশ বেশি।