সেতুমন্ত্রীর বক্তব্যে টিআইবির উদ্বেগ

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালকে (টিআই) জড়িয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও অমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি।

গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআই’র বাংলাদেশ চ্যাপ্টার বলেছে, একজন মন্ত্রীর এমন বক্তব্য ‘দায়িত্বশীলতার পরিচায়ক নয়’।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত মন্ত্রীর বক্তব্য টিআইবির দৃষ্টিগোচর হয়েছে জানিয়ে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই যে, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) বা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কখনো কোনো কাজ করেনি এবং তা তাদের কর্মপরিধিতেও নেই। ফলে এ ব্যাপারে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা একেবারেই ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তিনি বলেন, মন্ত্রীর উক্ত বক্তব্যে এ বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে টিআইবির সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অমূলক। একইসঙ্গে আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই, টিআই ও টিআইবি কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে কাজ করে না। টিআইবি সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষ একটি প্রতিষ্ঠান।

সোমবার আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকম-লীর সভা শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের অপপ্রচারের সঙ্গে তাদের অপপ্রচার একাকার হয়ে গেছে।

মন্ত্রী ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) কথা বললেও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে টিআইবির নাম জড়ানো হয়েছে জানিয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এর আগেও বহুবার এ ধরনের ভুল লক্ষ করা গেছে; যা অনভিপ্রেত ও বিভ্রান্তিকর।

বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি বলেছে, গত ১২ জুন অন্য একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের যাচাই-বাছাইয়ের আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দেয়। এর দায় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের অন্যতম শীর্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে অন্যায়ভাবে টিআইবির ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।