রুদ্র তোর স্মৃতি

কলমের মতো মহাকাল ছোঁয়া বাঁশি

বাজাতে বাজাতে তামাটে রাখাল তুই

এই শহরের তূর্যবাদক হয়ে

নেমেছিলি পথে কবিতার সন্ন্যাসী

 

পথ ছিল তোর ছিল না পথের শেষ

গানের পাখিরা সঙ্গ দিয়েছে তবু

কঠিন পথের অবিরত যাত্রায়

প্রথাগতদের ভ্রুকুটি অনিঃশেষ

 

নিয়ন্ত্রণের গর্বিত গ্রীবা তুলে

থামাতে চেয়েছে ‘পথ ছেড়ে সরে দাঁড়া’

তোর মনে আছে কেমন বৈরী দিন

ধ্বংস পাহাড় উঠে আসে নদীকূলে

 

সেনাপতি নেই তুই তবু যুবরাজ

অতীতকালের আগুনের ভরা নদী

অবগাহনের দিন শেষে উঠে এসে

মেলে দিল ডানা রুদ্র আলোর সাজ

 

যেখানে যাবার দূর নগরের পথ

ঝাপসা হয়েছে দ্রাক্ষার রসে ঢেকে

আগুন নেভেনি, ভেতরের জাদুকর

উড়িয়ে দিয়েছে মহাকাব্যের রথ

 

যারা ছিল পথে ছিটকে পড়েছে তারা

একাকী পথিক সঙ্গী ছিল না কেউ

বেদনার মত দীর্ঘ হয়েছে দিন

শোনা গেছে তবু দ্রোহী কবিতার নাড়া

 

অন্তর তবু বাজিয়ে দিয়েছে সুর

সেই সুর আজ মিশে আছে পথ-ঘাটে

মাটির ভেতরে প্রোথিত সকল দ্রোহ

আমরা তবুও তোর স্মৃতিভারাতুর