রঙ মেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে লক্কড়ঝক্কড় বাস

গত ঈদুল ফিতরে সড়কপথে ঈদযাত্রা তুলনামুলক স্বস্তির যাত্রা হলেও আসছে ঈদুল আজহায় স্বস্তির যাত্রা নিয়ে রয়েছে সংশয়। এখনো মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান মেরামতকাজ চলছে। সময়মতো কাজ শেষ না হলে সেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট। ধারণা করা হচ্ছে গত ঈদের চেয়ে এবার যাত্রীর চাপ বাড়বে। ফলে গণপরিবহন সংকটের সুযোগ নিচ্ছেন অসাধু কিছু পরিবহন মালিক। তারা ফিটনেসবিহীন বাস রঙচঙ করে মহাসড়কে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ঈদযাত্রা স্বস্তির করতে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন বাস নামতে দেওয়া হবে না। কিন্তু প্রতি বছরই রঙমাখা লক্কড়ঝক্কড় বাস দেখা যায় ঈদযাত্রায়। এসব বাস শুধু দুর্ঘটনার কারণ নয়, মাঝপথে বিকল হয়ে গেলে সৃষ্টি হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট।     

ঈদ সামনে রেখে এরইমধ্যে পরিবহনের ওয়ার্কশপগুলো সরব। কোথাও চলছে বাসের ইঞ্জিন ও বডি মেরামত, কোথাও চলছে পুরনো বাসে নতুন করে রঙের প্রলেপ দেওয়ার কাজ। কোথাও আবার শুধু ফিটনেস টেস্ট করে গাড়ি সড়কে নামানোর প্রস্তুতি চলছে।

পরিবহনের মালিকরা বলছেন, ফিটনেসবিহীন বাস দূরপাল্লায় তারাও চালাতে চান না। দীর্ঘদিন ধরে গাড়ির মেরামত না করায় ঈদের আগে যেন মাঝপথে নষ্ট না হয় সেজন্য ওয়ার্কশপগুলোতে ঠিক করা হচ্ছে।

সরেজমিনে রাজধানীর ডেমরা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দূরপাল্লার প্রায় সব রোডের গাড়ি মেরামত হচ্ছে সেখানকার ওয়ার্কশপগুলোতে। দীর্ঘদিন আগে দুর্ঘটনায় পড়ে বিকল থাকা কিছু গাড়িও ঠিক করা হচ্ছে। অনেক গাড়ির ছোট সমস্যার জন্যও আনা হচ্ছে মেরামত করার জন্য। তবে বেশিরভাগই নতুন সিট লাগানো ও পুরনো গাড়ি রঙ করার জন্য আনা হচ্ছে এই ওয়ার্কশপগুলোতে।

ডেমরায় একটি ওয়ার্কশপে কাজ করা মো. স্বপন দেশ রূপান্তকে বলেন, এই ঈদে গত বারের থেকে চাপ বেড়েছে। এবার দিন যত যাচ্ছে ভালোই কাজ আসছে। ঈদযাত্রার শুরুর আগে এই চাপ থাকবে। একেক গাড়ি একেক সমস্যার জন্য আসছে। 

 মো. রাকিব নামে এক মিস্ত্রি বলেন, সারা বছর গাড়ির কাজ তেমনটা না করালেও ঈদের সময় সব পরিবহন মালিকই চান তাদের গাড়ি ঠিকঠাক রাখতে। তাই অনেকে রঙ ও সিট কভার পরিবর্তন করাতেই গাড়িগুলো মেরামত করাতে আসেন গ্যারেজগুলোতে। এবার ভালোই কাজ আসছে। সামনে আরও বাড়বে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য মতে, এবারের ঈদে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ আশপাশের অঞ্চল থেকে ১ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করবে। এছাড়াও এক জেলা থেকে অপর জেলায় আরও প্রায় ৪ কোটি মানুষ ঈদে বাড়ি যেতে পারে। এতে আগামী ২২ জুন থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত ঈদবাজার, গ্রামের বাড়ি যাতায়াতসহ নানা কারণে দেশের বিভিন্ন শ্রেণির পরিবহনে বাড়তি প্রায় ৮০ কোটি ট্রিপ যাত্রীর যাতায়াত হতে পারে। যার জন্য এই সুযোগে বাড়তি ট্রিপের জন্য লক্কড়ঝক্কড় বাসও নামাতে চাচ্ছেন কিছু পরিবহন মালিক।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঈদ এলেই পরিবহনের একটি শ্রেণি বাড়তি লাভের আশায় সড়কে লক্কড়ঝক্কড় বাস নামাতে চায়। সেজন্যই এই সময়টায় ওয়ার্কশপগুলোতে সবচেয়ে বেশি গাড়ি মেরামত করতে দেখা যায়। তবে এই সব গাড়ি মহাসড়কে চালানোর ফলে প্রতি বছর দেখা যায় প্রাণহানির ঘটনা। তাই এবার সরকারের উচিত এই বিষয়গুলো ভালোভাবে নজর দেওয়া।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দূরপাল্লার রোডে আমরাও চাই না ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করুক। এবার সমিতি থেকে এক সভায় সব মালিককে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ যেন ফিটনেসবিহীন বাস মহাসড়কে না চালায়।’