দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সিলেট ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রার্থী হয়ে জয় পেয়েছেন বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতা। যদিও দলের পক্ষ থেকে তাদের কোনো সহযোগিতা দেওয়া হয়নি। উপরন্তু তাদের দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের কেউ কেউ সাবেক কাউন্সিলর বা কেউ নতুন নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয়দের মতে এলাকায় জনপ্রিয়তা তাদের জয় এনে দিয়েছে। এ ছাড়া দুই সিটিতে বেশিরভাগ ওয়ার্ডেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। জামায়াতসহ অন্য দলেরও কয়েকজন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন বুধবারের নির্বাচনে। সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত না মেনে প্রার্থী হওয়ায় একজন মেয়র প্রার্থী ও ৪২ জন কাউন্সিলর প্রার্থীকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল বিএনপি। তাদের বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দিয়ে আজীবনের জন্য এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়েছে। সেই বহিষ্কৃত নেতাদের মধ্যে আটজন সিসিকের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া জামায়াতপন্থি চারজন কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। বুধবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সিসিকের ৪২টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের ২২ জন, বিএনপিপন্থি আটজন, স্বতন্ত্র আটজন ও জামায়াতপন্থি চারজন প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
বিএনপিপন্থি (বহিষ্কৃত) বিজয়ী কাউন্সিলররা হলেন, ১ নম্বর ওয়ার্ডে সৈয়দ তৌফিকুল হাদী, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ফরহাদ চৌধুরী শামীম, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে নজরুল ইসলাম মুনিম, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ বি এম জিল্লুর রহমান উজ্জ্বল, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে আবদুর রকিব তুহিন, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে হুমায়ুন কবির সুহিন, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে দেলোয়ার হোসেন ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে আলতাফ হোসেন সুমন।
জামায়াতপন্থি বিজয়ী কাউন্সিলররা হলেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সায়ীদ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে আবদুল মুহিত জাবেদ, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে আবদুল জলিল নজরুল ও ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে রিয়াজ মিয়া।
নির্বাচিত স্বতন্ত্র কাউন্সিলররা হলেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডে রেজওয়ান আহমদ, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে মাজহারুল ইসলাম শাকিল, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে রকিব খান, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে নজমুল হোসেন, ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে জয়নাল আবেদীন, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে লিটন আহমদ, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ফখরুল আলম ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ডে মতিউর রহমান।
অন্যরা সবাই আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর।
এদিকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৩টিতেই পুরনো কাউন্সিলররা জয়ী হয়েছেন। আর জয়ী কাউন্সিলরদের মধ্যে ২২ জনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতা। বিএনপির পাঁচজন আর ওয়ার্কার্স পার্টি থেকে জয়ী হয়েছেন একজন। জামায়াতের সাতজন কাউন্সিলর প্রার্থীর সবাই হেরে গেছেন।
গত বুধবার রাতে রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমি থেকে রিটার্নিং অফিসার বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী এবার নতুন যে সাতজন কাউন্সিলর পদে জয়ী হয়েছেন, তারা হলেন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আশরাফুল ইসলাম বাবু, বোয়ালিয়া থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আলিফ আল মাহমুদ ওরফে লুকেন। ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে নতুন প্রার্থী হিসেবে জিতেছেন নগরের মতিহার থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন। ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন প্রার্থী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহের হোসেন সুজা, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ কর্মী মনিরুজ্জামান, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা জানে আলম ওরফে জনী ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা আবু বক্কর ওরফে কিনু বিজয়ী হয়েছেন।
অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। তা সত্ত্বেও দলীয় নির্দেশ অমান্য করে অনেক নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন জয়ীও হয়েছেন।
রাজশাহীতে বিএনপির ওয়ার্ড কাউন্সিলর যারা পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন, তারা হলেন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে আবদুস সোবহান ওরফে লিটন, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে বেলাল আহম্মেদ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে আশরাফুল হোসেন ওরফে বাচ্চু। এ ছাড়া ৭ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টির অঙ্গসংগঠন যুবমৈত্রীর নেতা মতিউর রহমান। তিনি দ্বিতীয়বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন।
এ ছাড়া দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী কাউন্সিলর পদে জয়ী হয়েছেন। তারা হলেন ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আকতারুজ্জামান।