করছাড় পেতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এ সময়ের মধ্যে উৎপাদনে যাওয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে আগামী ২০৩৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্জিত আয়ের ওপর কোনো কর দিতে হবে না। তবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো এ সুবিধা পাবে না।
গত ১৯ জুন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম সই করা প্রজ্ঞাপন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই বিশেষ ক্ষমতা আইনে বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেয় সরকার। স্বল্প সময়ের জন্য ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হলেও পরবর্তী দফায় মেয়াদ বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয় প্রতিযোগিতা ছাড়াই। সেই সঙ্গে এসব কেন্দ্রের মালিকরা বিভিন্ন কায়দায় সরকারের কাছ থেকে নানা সুবিধা বাগিয়ে নেয়।
তাদের মতে, সরকারি উদ্যোগে দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া এর অগ্রগতি আশানুরূপ না হওয়ায় বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। অনেক সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন না হলেও বেসরকারি কেন্দ্রের মালিকদের ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দিতে হয়। এতে বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনতে হচ্ছে পিডিবিকে। গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েও ব্যয় সামলানো যাচ্ছে না।
বেসরকারি খাত থেকে বের হয়ে সরকারি উদ্যোগে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন মহল থেকে বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও তা আমলে নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের যেসব প্রাইভেট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির (কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানি ব্যতীত) বাণিজ্যিক উৎপাদন ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শুরু হবে, সেসব কোম্পানির কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবসায় অর্জিত আয়ের ওপর উৎপাদনের তারিখ থেকে ২০৩৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কোনো কর দেওয়া লাগবে না।
যেখানে আরও বলা হয়, এ ছাড়া কোম্পানিতে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের আয়ের ওপর, বাংলাদেশে তাদের আসার দিন থেকে পরবর্তী তিন বছর কর প্রযোজ্য হবে না। কোম্পানি থেকে গৃহীত বৈদেশিক ঋণের ওপর প্রদেয় সুদের ওপর কোনো করারোপ হবে না। কোম্পানি থেকে প্রদেয় রয়্যালটিস, টেকনিক্যাল নো-হাও অ্যান্ড টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ফির ওপর কর দিতে হবে না। এ ছাড়া কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরের ফলে উদ্ভূত মূলধনি মুনাফার ওপরও কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ২০২৫ সালের ৩০ জুনের মধ্যে উৎপাদনে আসবে, সেসব কোম্পানিকে বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিন থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর আয়ের ওপর কোনো কর দিতে হবে না। এর পরবর্তী তিন বছর অর্ধেক এবং তার পরবর্তী দুই বছর ২৫ শতাংশ হারে আয়ের ওপর করছাড় পাবেন তারা।
তবে উভয় ক্ষেত্রে কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলোকে যথাযথভাবে হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রাইভেট সেক্টর পাওয়ার জেনারেশন পলিসি অব বাংলাদেশে নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করতে হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।