ভাড়াটে যোদ্ধা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওয়াগনারের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিন রুশ কর্র্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ থেকে পিছু হটার দুদিন পর প্রথম অডিওবার্তা দিয়েছেন। গতকাল সোমবার দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন রাশিয়ার সরকার উৎখাত তার বিদ্রোহের উদ্দেশ্য ছিল না। খবর বিবিসির।
বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে প্রকাশিত প্রিগোজিনের ১১ মিনিটের এ অডিও বার্তায় তিনি বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন তা উল্লেখ করেননি। প্রিগোজিন বলেন, ‘মস্কো অভিমুখে যাত্রার মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রতিবাদ জানান দিতে চেয়েছি। কিন্তু সরকার উৎখাত করতে চাইনি।’
ওয়াগনারপ্রধান আরও বলেন, ‘ওয়াগনারের ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঠেকানোই লক্ষ্য ছিল। একই সঙ্গে রাশিয়ার যেসব কর্মকর্তা অপেশাদার পদক্ষেপের মাধ্যমে বড় বড় ভুল করেছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে চেয়েছিলাম।’
মস্কোর দিকে যাত্রার সময় বেসামরিক মানুষের সমর্থন পেয়েছিলেন দাবি করে প্রিগোজিন বলেন, ‘রাশিয়ার শহরগুলোতে লোকজন আমাদের সঙ্গে রুশ পতাকা ও ওয়াগনারের প্রতীক নিয়ে দেখা করেন। আমরা যখন এগিয়ে যাচ্ছিলাম, তাদের হাসিখুশি দেখাচ্ছিল।’
বিদ্রোহ ঘোষণার পর গত শনিবার ওয়াগনার যোদ্ধারা মস্কোর ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে পৌঁছে গিয়েছিল উল্লেখ করে প্রিগোজিন বলেন, তার যোদ্ধারা মস্কোর দিকে এগোনোর সময় পথে থাকা সব সামরিক স্থাপনা ও বিমান ঘাঁটি অবরুদ্ধ করেছিল। যা থেকে বোঝা যায়, রাশিয়ায় মারাত্মক নিরাপত্তা ঘাটতি রয়েছে।
বিদ্রোহ থামাতে ক্রেমলিনের সঙ্গে চুক্তিতে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার লুকাশেঙ্কো ভূমিকা রেখেছেন বলেও জানান প্রিগোজিন। তিনি বলেন, লুকাশেঙ্কো তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং ওয়াগনার যেন বৈধভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারে, তার উপায় বের করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
রাশিয়ার সামরিক নেতৃত্ব উৎখাতের ঘোষণা দিয়ে গত শুক্রবার মস্কোর দিকে যাত্রা শুরু করে ওয়াগনার যোদ্ধারা। পরদিন বিভিন্ন রুশ শহর দখল করতে করতে রাজধানীর দিকে এগিয়ে যায় তারা। দিনভর উত্তেজনার পর শনিবার রাতে মস্কোমুখী যাত্রা বন্ধ করে ওয়াগনার যোদ্ধাদের নিজেদের ঘাঁটিতে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন প্রিগোজিন। একই সঙ্গে বেলারুশে ‘নির্বাসনে’ যেতেও রাজি হন।