বিবৃতিতে কাদের

বিএনপি জন্মলগ্ন থেকে জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ

বিএনপি জন্মলগ্ন থেকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ঐতিহ্যগতভাবেই গোলাম আযমের দল জামায়াতে ইসলামী বিএনপির ঘনিষ্ঠ মিত্র। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি নাগরিক গোলাম আযমকে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছিলেন এবং তার স্ত্রী খালেদা জিয়া তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়েছেন।’

গতকাল শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। বিএনপি নেতাদের বক্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর আখ্যায়িত করে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতেই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এই বিবৃতি দিয়েছেন।

প্রায় এক দশক পর সম্প্রতি জামায়াত রাজধানীতে সমাবেশ করেছে। স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দলটির মাঠে নামার পেছনে ইন্ধন রয়েছে বলে একে অপরকে দোষারোপ করছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি।

গতকাল দেওয়া বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি জামায়াতের সঙ্গে একাকার হয়ে সরকার গঠন করে এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধূলিসাৎ করে। যুদ্ধাপরাধের বিচারের সময় খালেদা জিয়া জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্য আন্দোলন করেছেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির শাসনামলে পাকিস্তানি দর্শনের রাজনীতি বাংলাদেশে জোরদার হয় এবং জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই সঙ্গে বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় জামায়াতে ইসলামী ফুলেফেঁপে বিষবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। দেশের সচেতন মানুষ মাত্রই জানে জামায়াতে ইসলামী হলো বিএনপির বি-টিম।’

বিএনপির মতো বিদেশি প্রভুদের তুষ্ট করার জন্য আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনা রাজনীতি করেন না, এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণের জন্য শেখ হাসিনা সরকার ব্রিকসে যোগদান করছেন। দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য আওয়ামী লীগ রাজনীতি করে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ব্রিকসের যোগদান নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বক্তব্য অজ্ঞতা ছাড়া কিছু নয়। পাশ্চাত্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেও ভারত ও আফ্রিকা ব্রিকস ব্যাংক প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির কাছ থেকে দেশের জন্য আর্থিক সহায়তা পেয়েছে।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘বিএনপিকে ভোট না দেওয়ার অপরাধে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া, হরতালের নামে আগুন সন্ত্রাস ও পেট্রোল বোমা মেরে নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে মারা, গাছ কাটা, ভূমি অফিস পুড়িয়ে দেওয়ার যে ইতিহাস বিএনপি সৃষ্টি করেছিল সেটা বেশি দিন আগের নয়।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা ভুলে গেলেও দেশের মানুষ বিএনপির সেই সহিংসতার কথা ভুলে যায়নি। আসলে নিজেদের এসব অপকর্ম আড়াল করতেই বিএনপি নেতারা সবসময় অপপ্রচার চালান এবং সরকারি দলের লোকদের ওপর দোষ চাপিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগার উপলক্ষ খোঁজেন।’