কম রপ্তানিতেও আয় বেড়েছে

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ কমলেও টাকার হিসাবে বাড়ছে। গত অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৩৬ লাখ ১০ হাজার ২১০ টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আয় করেছে ৩ লাখ ৪২ হাজার ৪১২ কোটি টাকা। বিপরীতে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯১৩ টন পণ্য রপ্তানি করে আয় করেছে ৩ লাখ ২২ হাজার ৯৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ২০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা বেশি (৬.৩১%) আয় হয়েছে।

পণ্য কমলেও টাকার অঙ্কে আয় বাড়ার প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপকমিশনার ও সংস্থাটির মুখপাত্র ব্যারিস্টার মো. বদরুজ্জামান মুন্সি বলেন, ‘আমাদের দেশ থেকে গার্মেন্টস পণ্যই বেশি রপ্তানি হয়ে থাকে। সম্ভবত গার্মেন্টস পণ্যে আমরা এখন আগের তুলনায় উচ্চমূল্যের কোনো আইটেম তৈরি করছি। আর এতেই হয়তো পণ্যের ওজন কমে গেলেও টাকার অঙ্কে বাড়ছে।’

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং অফডক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোস অ্যাসোসিয়েশন (বিকডা) সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ বাড়ছে। গত মে মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৫০ হাজার ২৭৭ একক কনটেইনার পণ্য রপ্তানি হলেও জুনে তা ৭৫ হাজার ৩৯১ কনটেইনারে পৌঁছে। অন্যদিকে দেশের রপ্তানি-বাণিজ্যে প্রায় শতভাগ পণ্য রপ্তানি কার্যক্রম করে থাকে বিকডা। বিকডা গত মাসে ৭১ হাজার ৬০০ কনটেইনার পণ্য রপ্তানি করে, মে মাসে যা ছিল ৪৮ হাজার ১৩৪ কনটেইনার। এ ছাড়া গত বছর জুনে রপ্তানি করেছিল ৬৮ হাজার ৯৯৭ একক কনটেইনার। তবে কনটেইনারের সংখ্যা বাড়লেও পরিমাণে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের পরিসংখ্যান অনুযায়ী পরিমাণে তা কমেছে।

পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আগে আন্ডার গার্মেন্টস ও টি-শার্ট বেশি তৈরি করতাম। এখন ট্রাউজার, স্যুটসহ বিভিন্ন সেট তৈরি করছি। এগুলোর ইউনিট মূল্য অনেক বেশি। মূল্য বেশি হওয়ার কারণে আমাদের রপ্তানি আয়ও বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে আমরা চীন থেকে উচ্চমূল্যের এসব অর্ডার পাচ্ছি। অর্থাৎ আমরা উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরির দিকে অগ্রসর হচ্ছি।’

কমমূল্যে বেশি রপ্তানি আয়ের পেছনে উচ্চমূল্যের আইটেম আমাদের রপ্তানি তালিকায় যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়ে সাইফ মেরিটাইমের চিফ অপারেটিং অফিসার আবদুল্লাহ জহির বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান যুদ্ধের মধ্যেও আমাদের রপ্তানি ধীরে ধীরে বাড়ছে, অবশ্যই তা পজিটিভ। তবে পণ্য কমে যাওয়ার পরও টাকার মূল্যে বেশি আয়ের পেছনের কারণ হলো, আমরা এখন উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানি করছি। যেহেতু দেশের রপ্তানি পণ্যের বেশিরভাগই গার্মেন্টস পণ্য, তাই এ খাতে আমরা নতুন নতুন আইটেম হয়তো রপ্তানি করছি।’

এদিকে আমাদের রপ্তানি তালিকায় কী কী পণ্য যুক্ত হয়েছে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপকমিশনার ও সংস্থাটির মুখপাত্র ব্যারিস্টার মো. বদরুজ্জামান মুন্সি বলেন, ‘বর্তমানে রপ্তানি তালিকায় অনেক অপ্রচলিত পণ্য যেমন রয়েছে, তেমনিভাবে গার্মেন্টস সেক্টরে অনেক উচ্চমূল্যের পণ্যও রয়েছে। আর সামগ্রিকভাবে দেশের রপ্তানি আয় বাড়ছে।’

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের ৯৩ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সম্পাদিত হয়ে থাকে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিযে ২৯ লাখ ৬৬ হাজার ২৯৭ একক কনটেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছিল।