নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়িচালক মো. রুবেলকে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র হাতে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবলীগ নেতা মো. আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।
ইউএনওর গাড়িচালক মো. রুবেল সদর উপজেলার উলুপুর ফুলবাগান এলাকার বাসিন্দা। আর প্রধান হামলাকারী মো. আহসান হাবিব নলডাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলার পূর্ব মাধনগর গ্রামের বাসিন্দা। তবে ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা সহযোগীর নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
গাড়িচালক রুবেল অভিযোগ করে বলেন, তার বড় ভাই খোকন রেন্ট-এ-কারের ব্যবসা করেন। যুবলীগ নেতা আহসান হাবিব ঈদের আগে তার ভাইয়ের প্রাইভেট কার ভাড়া নিয়ে ৫ দিন রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করেন। কিন্তু ভাড়া না দিয়ে ঘোরাতে থাকেন তিনি। এ নিয়ে গতকাল সকালে তার ভাইয়ের সঙ্গে হাবিবের মোবাইল ফোনে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় ভাড়া পরিশোধের কথা বললে হাবিব ছোট ভাই রুবেলকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আহসান হাবিব ও তার এক সহযোগী ধারালো অস্ত্র হাতে উপজেলা কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে। ফটকের সামনে এসে তারা গাড়িচালক রুবেলকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় হাবিব ধারালো অস্ত্র বের করে মারতে গেলে দৌড়ে ইউএনও অফিসে ঢুকে পড়েন রুবেল। তখন হাবিব ও তার সহযোগী রুবেলের পিছু নিয়ে দোতলা পর্যন্ত উঠে আসে। কিন্তু সেখানে লোকজনের ভিড় দেখে অস্ত্র হাতেই ইউএনও অফিস থেকে বেরিয়ে যায় তারা। পরে রুবেল বিষয়টি ইউএনও এবং পুলিশকে জানান।
রুবেল জানান, ঘটনাস্থল যেহেতু উপজেলা কমপ্লেক্সের ভেতরে, তাই কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন তিনি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নলডাঙ্গার ইউএনও রোজিনা আক্তার বলেন, তার চালক রুবেলের ভাইয়ের সঙ্গে আহসান হাবিবের বিরোধ রয়েছে। প্রাইভেট কারের ভাড়া নিয়ে মূলত তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব। ভাইয়ের ওপর প্রতিশোধ নিতে রুবেলের ওপর তারা অস্ত্রসহ হামলার চেষ্টা করে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নলডাঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আকবর হোসেন জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক উপজেলা কমপ্লেক্সে পুলিশ পাঠানো হয়। এ বিষয়ে মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযানে নেমেছে।