কাদেরের বিবৃতি

বিদেশিদের নির্বাচন নিয়ে কথা শুনতে উৎসাহী বিএনপি

বিদেশিদের ‘মদদপুষ্ট’ হয়ে বিএনপি রাজনৈতিক কর্মসূচি নির্ধারণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা দখলে বেপরোয়া বিএনপি বিদেশি প্রভুদের করুণা লাভের আশায় মিলিয়ন ডলার খরচ করে লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছে। তাদের বিদেশি প্রভুরা নির্বাচন নিয়ে কী বলবে সেদিকে তারা মুখিয়ে থাকে।’

গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ওবায়দুল কাদের এই মন্তব্য করেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অসাংবিধানিক ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেনÑ এমন অভিযোগ তুলে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এই বিবৃতি দিয়েছেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ক্রমাগতভাবে জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়ে দেশের জনগণের ওপর বিএনপি বিশ^াস হারিয়েছে। বিএনপি কখনোই জনকল্যাণের নীতি গ্রহণ করতে পারেনি এবং জনগণও তাদের আহ্বানে সাড়া দেয়নি।’

ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রবিরোধী ও  ষড়যন্ত্রনির্ভর রাজনৈতিক দল, এমন মন্তব্য করে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা (বিএনপি) অসাংবিধানিক পন্থায় ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারা চালায়।’

তিনি বলেন, ‘সময় আর নেই, সরকারের সময় শেষ’ মির্জা ফখরুল ইসলামের এমন বক্তব্য শুধু অসাংবিধানিকই নয়, রাষ্ট্রদ্রোহীমূলকও বটে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ বা সময়সীমা নির্ধারণের এখতিয়ার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বা বিএনপির নেই। সরকারের সময় নির্ধারণ করে দেওয়ার তিনি কে? জনগণ ভোট দিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকারকে সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত মেয়াদ শেষে গণতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তন হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা শোভা পায় না। বিএনপি ক্ষমতায় এসে এ দেশের গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করেছিল, ভোট চুরির নিকৃষ্টতম উদাহরণ সৃষ্টি করেছিল। বিএনপি আমলে পরিচালিত অপশাসন ও দুর্নীতির কথা দেশবাসী ভুলে যায়নি।

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে সংখ্যালঘুদের ওপর নারকীয় কায়দায় নির্যাতন চালিয়েছিল, ভিন্নমত দমনে ইতিহাসের জঘন্য নজির স্থাপন করেছিল। সারা দেশে আওয়ামী লীগের ২৪ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিল। বাংলাদেশের জনগণ সেই অন্ধকারময় সময়ে ফিরে যেতে চায় না।’

উন্নয়ন অগ্রগতির এই ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনেও দেশের জনগণ আবার আওয়ামী লীগের পক্ষে রায় দেবে, এমন আশা প্রকাশ করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক।