যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউজে কোকেন পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় গত রবিবার রাতে হোয়াইট হাউজের ওয়েস্ট উইংয়ে কোকেনভর্তি একটি ব্যাগ পাওয়া যায়। অবশ্য সন্দেহজনক সাদা পাউডার মেলার পর হুলুস্থুল বেঁধে গিয়েছিল সেখানে। কিছু সময়ের জন্য হোয়াইট হাউজের ওই অংশ খালি করে ফেলা হয়। পরে অবশ্য ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে জানায়, ব্যাগভর্তি সাদা পাউডার আসলে কোকেন।
প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন থাকেন হোয়াইট হাউজের এক্সিকিউটিভ ম্যানশনে। ওই ম্যানশনেরই লাগোয়া ওয়েস্ট উইং, যেখানে শত শত লোক নিয়মিত আসা-যাওয়া করেন। ওভাল অফিস, কেবিনেট রুম ও প্রেস এরিয়াও রয়েছে একই এলাকায়। তবে ওই ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার বাসভবনে ছিলেন না। পরিবার নিয়ে ক্যাম্প ডেভিডে ছুটিতে ছিলেন তিনি।
সাদা পাউডার পাওয়ার খবরেই সেটি পরীক্ষা করতে হোয়াইট হাউজে ছুটে যান ফায়ার ও জরুরি সেবা দপ্তরের কর্মকর্তারা। পরে প্রাথমিকভাবে তারা নিশ্চিত হন, সেটি আসলে নিষিদ্ধ মাদক কোকেন। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষার পরই হোয়াইট হাউজ ফের খুলে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ওই পাউডার অধিকতর পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সিক্রেট সার্ভিস আনুষ্ঠানিকভাবে বলছে, একটি ‘উপাদান’ তারা শনাক্ত ও পরীক্ষা করে। তবে সেই উপাদান আসলে কী, সেটি সুনির্দিষ্ট করে জানাননি তারা।
আলজাজিরা জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এ সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ওই উপাদান অধিকতর পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া হোয়াইট হাউজে সেটি কীভাবে ঢুকল, সে ব্যাপারেও তদন্ত চলছে।
সরকারি সূত্রের বরাতে অনেক সংবাদমাধ্যম ওই পাউডারকে কোকেন হিসেবে বর্ণনা করেছে। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ডিসির ফায়ার বিভাগের বিপজ্জনক উপকরণ শনাক্ত টিমের একজন ফায়ার ফাইটার ওই পাউডার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, পাউডার পাওয়ার খবরের পর তাৎক্ষণিক পরীক্ষায় ওই উপাদানকে সম্ভাব্য কোকেন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। যদিও এই পরীক্ষাই চূড়ান্ত নয়। সূত্র দুটি বলছে, একটি জিপলক ব্যাগের ভেতরে সাদা পাউডারের মতো উপাদান পাওয়া যায় হোয়াইট হাউজের ওয়েস্ট উইংয়ে।
সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্থনি গুগলিয়েলমি সিএনএনকে বলেন, ওয়েস্ট উইংয়ের একটি কর্মব্যস্ত জায়গায় ওই পাউডার পাওয়া যায়। ওয়াশিংটন ডিসির ফায়ার বিভাগ বিপজ্জনক উপাদান শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রক দল ‘হ্যাজম্যাট টিম’ পাঠিয়েছে, যারা ওই উপাদানকে ‘বিপজ্জনক নয়’ বলে জানিয়েছে। সেই সঙ্গে হোয়াইট হাউজে সেটি কীভাবে প্রবেশ করল, সে ব্যাপারে একটি তদন্ত চলছে।