আজ ৬ জুলাই। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতি বছর এই দিনটি নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে উদযাপন করা হলেও এ বছর দায়সারা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে রাবি প্রশাসন। মাত্র এক ঘন্টার অনুষ্ঠান সূচিতেই শেষ হয়েছে দিবসটির কার্যক্রম।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এই দিনে এমন আয়োজনে নাখোশ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকরা। তারা বলছেন, এই দিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে আনন্দের দিন হওয়া উচিত ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি হতে পারতো।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও শিকার করেছে যে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান এর থেকে ভালো হওয়া উচিত ছিল। তবে তারা দায়ী করছেন গ্রীষ্মকালীন ও ঈদের ছুটিকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, এ বছর শুধু রাবির প্রশাসন ভবন ও প্রধান ফটক প্রাঙ্গণ আলোকসজ্জা করা হয়েছে। তবে কোনো আবাসিক হলে আলোকসজ্জা করা হয়নি। এমনকি কেক কাটা কিংবা আলোচনা সভার ও আয়োজন ছিল না।
জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে পতাকা উত্তোলন, বেলুন-ফেস্টুন উড়ানো, বৃক্ষ রোপণ ও শোভাযাত্রাতেই সীমাবদ্ধ ছিল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, আমি ব্যক্তিগত ভাবে বেলুন-ফেস্টুন উড়ানো আয়োজনের সঙ্গে একমত নই। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গত এক বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক লক্ষ্যগুলো কতটা অর্জন হয়েছে সেটি নিয়ে আলাপ হওয়া জরুরি। এ ছাড়া বিশেষ স্কলার কাউকে নিয়ে এসে একটা ভালো আলোচনা সভা এবং সম্ভাবনা নিয়ে সভা হওয়া উচিত।
পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, দিবসটির একটা গুরুত্ব আছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে আমার মনে হয় ঈদের ছুটিটা যেভাবে দেওয়া হয়েছে তার একটা প্রভাব এখানে পড়েছে। যে কারণে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক কারোরই তেমন উপস্থিতি ছিল না। প্রশাসন চাইলে ৬ তারিখ থেকেই ক্লাস-পরীক্ষা শুরু করতে পারতো।
নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক আতাউর রহমান রাজু বলেন, এমন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের ব্যাপারে বিস্মিত! তবে এই দিনটি হওয়া উচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে আনন্দের দিন। এই দিনে সব ধরনের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করে একটা উৎসব মুখর আমেজ তৈরি করা। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে এমন হয় না।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সভাপতি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে এমনটি হয়েছে। তবে এর থেকে ভালোভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হতে পারতো।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, উদযাপন কমিটি অনেক আগেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। আমি শুধু সেসব কিছু বাস্তবায়নের ব্যাপার দেখেছি।
কেক না কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের সঙ্গে কেক কাটা হতো, স্কুলের ছুটির জন্য সম্ভবত এটি করা সম্ভব হয়নি। তবে শিক্ষকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে আরও ভালো ভাবে এই দিবস পালিত হওয়া উচিত।