আলোচনা সভায় ফখরুল

সরকারবিরোধী নেতাদের ফোন হ্যাক করা হচ্ছে

ইসরায়েলি প্রযুক্তি পেগাসাস ব্যবহার করে সরকারবিরোধী দলের নেতাদের ফোন হ্যাক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলকে দমনের জন্য এবং বিরোধী মতকে নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে তারা (সরকার) এটা করছে। এটা কোনো গণতান্ত্রিক দেশে হতে পারে না। পকেটের টেলিফোনটাই এখন বড় শত্রু। ফোনে কথাবার্তা সবকিছুই এখন নজরদারিতে।’

গতকাল শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট’ নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এই অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘হ্যাঁ, এ কথা ঠিক যে গণতন্ত্রে কিছু আলাপ-আলোচনা করতে হয়। আলাপ-আলোচনা কার সঙ্গে করবেন? যারা অন্যের অধিকারে, গণতন্ত্রে বিশ্বাসই করে না। তার সঙ্গে কী আলাপ করবেন? ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে আমরা বিশ্বাস করে গিয়েছিলাম। আমাদের জনগণের সামনে পুরো বোকা বানিয়ে ফেলেছে। এদের সঙ্গে সমঝোতা করা যায় না। সমঝোতা করে লাভ হবে না, এরা আবারও প্রতারণা করবে।’

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু সমস্ত বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালামকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। ১০৩/১০৪ ডিগ্রি জ্বর, প্লাটিলেট নেমে গেছে। ডাক্তাররা এখন পর্যন্ত ধরতে পারেননি এটা কি ডেঙ্গু নাকি চিকুনগুনিয়া, নাকি করোনাভাইরাস। সিটি করপোরেশন কী করে? কলকাতা তো ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে। শুনলাম বিদেশ থেকে ছেলেমেয়েদের নিয়ে এসে সিটি করপোরেশনে চাকরি দেয়। পদের নাম হিট অফিসার। স্বাস্থ্যসেবা না পেয়ে আমরা সব “হিটেড-বুটেড” হয়ে যাচ্ছি।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে ১৫৩টা মামলা, ৯৬টা মামলা, ৮০টা মামলা, ৯০টা মামলা। অনেক নেতা ১০ বছর ধরে জেলে। আবদুস সালাম পিন্টু, লুৎফুজ্জামান বাবর, সাইফুল আলম নিরব, মোনায়েম মুন্না, এস এম জাহাঙ্গীর ও গোলাম মাওলা শাহিন জেলে। এই এক মাসে আমাদের প্রায় আট হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করেছে।’

তিনি বলেন, ঋণ করতে করতে তারা প্রত্যেকটা মানুষকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছে। ঋণ নিয়ে তারা (সরকার) আজকে বাংলাদেশকে ফতুর করে ফেলেছে।

এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান, সাম্যবাদী দলের সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

একই দিন সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সরকার দেশকে ভয়ানক গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চায়। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাজা দেওয়ার মতো ঘৃণ্য চক্রান্ত জনগণ রুখে দেবে। এবার কোনো অপচেষ্টায় সরকারের পতন ঠেকানো যাবে না।’

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে তারা বিভিন্ন সূত্র থেকে জানতে পেরেছেন যে, সরকার ২০১৩/২০১৪ সালে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে করা ‘মিথ্যা’ ও ‘গায়েবি’ মামলায় সাজা দিতে জেলা ও মহানগরগুলোর বিচারকদের নির্দেশ দিয়েছে। কাজটি সম্পন্ন করা হবে আগামী দুই মাসের মধ্যেই। এ বিষয়ে বিচারকদের সরকারি সিদ্ধান্ত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলার পুলিশ সুপারদের।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে দলের নেতা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, খায়রুল কবির খোকন, ডা. রফিকুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম খান আলীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।