প্রতিষ্ঠার দেড় বছরের মাথায় গণ অধিকার পরিষদ ভেঙে যাচ্ছে। দলটির আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়াকে অপসারণের মধ্য দিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। দলটির সদস্য সচিব নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে একাংশ আজ সোমবার কাউন্সিল করতে যাচ্ছে।
সকাল ১০টায় পল্টন টাওয়ারের নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় কাউন্সিলকে ঘিরে উত্তেজিত অবস্থা বিরাজ করছে। জেলা থেকে নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসতে শুরু করেছেন। কাউন্সিলকে সামনে রেখে অপসারিত রেজা কিবরিয়াকে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গ ছেড়ে দলে আসতে চাইলে ফেরত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নুর। আর রেজা কিবরিয়ার সমর্থকরা বলেছেন, নুর ভুল বুঝে দলে ফিরতে চাইলে তাকে দলে নেওয়া হবে।
রেজা কিবরিয়াকে যে প্রক্রিয়ায় বহিষ্কার করা হয়েছে তাকে অগঠনতান্ত্রিক উল্লেখ করে আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালকে চিঠি দিয়েছেন রেজার সমর্থকরা। তবে কাউন্সিলকে বাধা দেওয়ার কোনো প্রয়াস তাদের নেই বলে জানিয়েছেন রেজা কিবরিয়ার সমর্থকরা।
নুর যখন তার দলের কাউন্সিল নিয়ে ব্যস্ত তখন (গতকাল রবিবার) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবের দপ্তরে ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা রুজুর অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. জিশান মাহমুদ।
গতকাল একই সময় মালিবাগের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ রাষ্ট্রদ্রোহী ও ধর্মীয় উসকানির অভিযোগ এনে গণ অধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন।
ইসিতে রেজা কিবরিয়ার সমর্থকদের চিঠি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে নুর তার কার্যালয়ে বসে দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার ইন্ধনে দলের বহিষ্কৃত নেতা রেজা কিবরিয়া ও তার কিছু সহযোগী গণ অধিকার পরিষদ ভাঙার চেষ্টা করছে। এ কাজে তারা সফল হবে না। অধিকাংশ সদস্য আমাদের সঙ্গে আছেন। সারা দেশের নেতাকর্মীরা কাউন্সিলকে সামনে রেখে ঢাকায় জড়ো হয়েছেন। কোনো বাধাই আমাদের কাউন্সিল ঠেকাতে পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘সরকার পতনের আন্দোলন যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে তখন সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার ইন্ধনে রেজা কিবরিয়া বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা শওকত মাহমুদের সঙ্গে একত্র হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আমাদের দলীয় ফোরামে আলোচনা না করে ইনসাফের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এটা দুঃখজনক। দলের সম্মতি ছাড়া ইনসাফের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হয়েছেন। জনগণ এগুলো বোঝে। কাউন্সিলের পর দেশের ছাত্র, যুবক, শ্রমিকদের নিয়ে আমরা রাজপথে সরকার পতনের আন্দোলনে অংশ নেব। সরকারের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে যারা দলে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে তাদের সে সুযোগ দেওয়া হবে না।’
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের কাছে লিখিত চিঠিতে বলা হয়েছে, গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়াকে যে প্রক্রিয়ায় অপসারণ করা হয়েছে তা অগঠনতান্ত্রিক এবং আহ্বায়ক হিসেবে তিনি বহাল আছেন। চিঠিতে গণ অধিকার পরিষদের প্রায় ৫০ জন কেন্দ্রীয় নেতা রেজা কিবরিয়ার অপসারণের বিরুদ্ধে মত দিয়ে সই করেছেন।
নুরের সমর্থকরা কাউন্সিল করবেন, রেজার সমর্থকরা মিছিল করবেন : রেজা কিবরিয়ার পক্ষের গণ অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, রেজা কিবরিয়ার নেতৃত্বে গণ অধিকার পরিষদ অখণ্ডিত আছে। দলছুট কিছু নেতা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে কার্যালয় দখলে রেখেছেন। তারা দল থেকে বের হয়ে আরেকটি গণ অধিকার পরিষদ করতে চান। কিন্তু আমরা ও দলের নিবেদিত নেতাকর্মীরা গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চলা দলের সঙ্গে আছি। আমরা আগামীকাল (আজ সোমবার) সেগুনবাগিচা রিপোর্টার্স ইউনিটির সামনে থেকে সকাল ১০টায় মিছিল নিয়ে পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে যাব।
প্রসঙ্গত, ২৬ অক্টোবর ২০২১ ঢাকার পুরানা পল্টনের জামান টাওয়ারে ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণ অধিকার পরিষদের যাত্রা শুরু হয়। এতে গণফোরাম থেকে পদত্যাগ করা প্রয়াত সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া মহাসচিব এবং কোটাবিরোধী আন্দোলনের নেতা ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে সদস্য সচিব করে ৮৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।