আগামীকাল বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে যাচ্ছে বিএনপি। এ কর্মসূচি থেকে এক দফার ঘোষণা আসবে বলে জানিয়েছেন নেতারা। এরপর চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রথম ধাপের কর্মসূচির অংশ হিসেবে পদযাত্রার কথা ঘোষণা করা হবে।
গতকাল সোমবার বিএনপি নেতারা দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন। তারা বলেন, বুধবার সমাবেশ থেকে চূড়ান্ত আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা হবে। প্রথম কর্মসূচি হতে পারে ১৫ জুলাইয়ের পদযাত্রা। এরপর সমাবেশ, মানববন্ধন প্রভৃতি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি আসবে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সমাবেশ থেকে আমরা কর্মসূচি ঘোষণা করব। সরকারবিরোধী যেসব রাজনৈতিক দল আমাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করছে তাদের লিয়াজোঁ কমিটির নেতাদের সঙ্গে আমাদের লিয়াজোঁ কমিটির নেতারা বৈঠক করছেন। তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর কর্মসূচি সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে। অন্য দলগুলো একই দিনে তাদের সুবিধামতো সময়ে কর্মসূচি ঘোষণা করবে।’
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি সমাবেশ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করবে। আর আমরা যারা ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারবিরোধী কর্মসূচি পালন করছি তারা পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কর্মসূচি ঘোষণা করব। বিএনপির ২২ জুলাই পর্যন্ত বিভাগীয় সমাবেশ রয়েছে। আর আমাদের পদযাত্রা কর্মসূচি রয়েছে। এরই ফাঁকে প্রথম কর্মসূচি পালন করব। ২২ জুলাইয়ের পর জোরেশোরে কর্মসূচি পালিত হবে।’
বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামীকাল বুধবার আমরা সমমনা ১২ দল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করব। সংবাদ সম্মেলন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করব।’
সমাবেশের অনুমতি চাইতে গতকাল দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন আবুল খায়ের ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ১২ জুলাই সমাবেশের অনুমতির জন্য ডিএমপিতে চিঠি দিয়েছিলাম। আজ ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তিনি আমাদের মৌখিক অনুমতি দিয়েছেন।’
শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সুস্থ হয়ে উঠছি। আশা করি কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারব। সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেবে।’
বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে বিভাগীয় শহরে তারুণ্যের সমাবেশ চলছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম, বগুড়া, বরিশাল ও সিলেটে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ জুলাই খুলনা এবং সর্বশেষ ২২ জুলাই ঢাকায় সমাবেশ হবে। এ ছাড়া শ্রমিক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল ও কৃষক দলের উদ্যোগে চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও খুলনা বিভাগে মেহনতি মানুষের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ১২ জুলাই নোয়াখালী (চট্টগ্রাম বিভাগ) থেকে শুরু হবে কর্মসূচি।
বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ চূড়ান্ত আন্দোলনের পাশাপাশি মেহনতি মানুষের সমাবেশও ফাঁকে ফাঁকে অনুষ্ঠিত হবে। এতে চূড়ান্ত আন্দোলন বাধাগ্রস্ত হবে না।’
সমাবেশ সফল করতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। সন্ধ্যা ৭টায় শাহজাহানপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বাসায় মহানগর বিএনপির নেতাদের প্রস্তুতি বৈঠক বসে। বৈঠকে সমাবেশ সফল করতে করণীয় নির্ধারণে নেতাদের পরামর্শ নেওয়া হয়।
যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সমাবেশ সফল করতে যুবদল কেন্দ্রীয় সংসদের নেতাদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা করেছি। এরপর মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা করেছি।’
ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সমাবেশ সফল করতে আমরা নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রস্তুতি সভা করেছি। আশা করছি সমাবেশ সফল করতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ থাকবে বেশি।’
গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর গোলাপবাগে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ থেকে সরকার পতনের দাবিতে ১০ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ১০ দফা দাবিতে ২৪ ডিসেম্বর বিএনপি রাজধানী ঢাকার বাইরে সব সাংগঠনিক জেলায় র্যালি করে। এরপর ৩০ ডিসেম্বর সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো রাজধানীতে র্যালি করে পৃথকভাবে। রোজার ঈদের আগে যুগপৎ কর্মসূচি শেষ হয়। এরপর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করে। বুধবারের সমাবেশ থেকে আবার ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা আসবে।