রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলিতে আরসা কমান্ডার নিহত

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠছে। প্রতিদিন খুন-অপহরণ, ছিনতাই লেগে আছে। এ কারণে এখানকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গতকাল সোমবার ভোরে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুলিশের সঙ্গে আরসার সদস্যদের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এতে আরসার কমান্ডার গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুটি ওয়ান শুটার ও ৬ রাউন্ড গুলি ও ১টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করেছে আর্মড পুলিশ।

নিহত আরসার সদস্য হলেন উখিয়ার ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা হোসেন আহমেদ প্রকাশ কায়সার (৩৫)। নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উখিয়া-টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প-কেন্দ্রিক অস্থিরতার মিশনে অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছে ৩০টির বেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী। মিয়ানমারের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় এসব সংগঠনের অন্তত দুই হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী এই অপতৎপরতায় জড়িত রয়েছে। যার জের ধরে ক্যাম্পে সংঘটিত হচ্ছে একের পর এক খুন।

রোহিঙ্গারা বলেছেন মূলত একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠেকাতে মরিয়া হয়ে উঠছে। তাদের অর্থ জোগানদাতা একটি মহল। চলতি জুলাই মাসে আটজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগ রোহিঙ্গা নেতা (মাঝি)। এ পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পের অভ্যন্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

জানা যায়, গত শুক্রবার ভোরে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়। এ ঘটনার পর থেকে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপিবিএনের সদস্যরা হত্যাকা-ে জড়িত থাকার সন্দেহে ১১ জন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে আটক করেন। এ সময় দুটি ওয়ানশুটারগান, ১ রাউন্ড কার্তুজ ও ১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করতে সক্ষম হন। আটকরা বর্তমানে কক্সবাজার জেলহাজতে রয়েছে। ক্যাম্প প্রশাসন বলছেন, শিগগিরই সাঁড়াশি অভিযান চলবে। সাধারণ রোহিঙ্গারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

জেলা পুলিশ ও এপিবিএনের তথ্য অনুসারে, কক্সবাজারের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত সাড়ে পাঁচ বছরে ১৭৩টি হত্যাকা- ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কমিউনিটি নেতা, স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ রোহিঙ্গা। এর মধ্য চলতি বছরের সাত মাসে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে একাধিক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় অন্তত ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত এক বছরে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে ৩৮০টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার ও ১৬৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ২৬ লাখের বেশি ইয়াবা ও ২৯ কেজি আইসসহ ৭৭৯ রোহিঙ্গাকে ধরা হয়। এছাড়া ১৩৬ রোহিঙ্গা অপহরণের ঘটনায় ১৮ মামলায় ২৯ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে ১৪ এপিবিএন পুলিশের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি সৈয়দ হারুন রশিদ বলেন,  আরসার শীর্ষ কমান্ডার হোসেন আহমেদ প্রকাশ কায়সারকে আটক করতে গেলে  আরসার সদস্যরা পুলিশের ওপর ১০-১২ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে, পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় আরসার শীর্ষ কমান্ডার হোসেন আহমেদ প্রকাশ কায়সার নিহত হন। অভিযান অব্যাহত আছে।

এ ব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, আরসা ও পুলিশের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে এক আরসা কমান্ডার নিহত হন।  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।