আমরা দয়া চাইনি ন্যায়বিচার চেয়েছি : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা তো দয়া চাইনি। জাস্টিস চেয়েছি, ন্যায়বিচার চেয়েছি। আমরা কোনো রাজত্বে বাস করি না। রাজা-রানীর রাজত্বে বাস করি না। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। সেটা একটা বেদনায় পরিণত হয়েছে। এই যন্ত্রণাগুলোকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে।

গতকাল সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের স্থায়ী কমিটির অসুস্থ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার আশু আরোগ্যে আয়োজিত দোয়া মাহফিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আন্দোলন ইচ্ছা করে করছি না, বাধ্য হয়ে করছি। আমরা তো নির্বাচন করেই পরিবর্তন চাই। কিন্তু নির্বাচন তো আপনি করতে দিচ্ছেন না। নির্বাচন আপনি নিজে নিজে করে নিয়ে চলে যাচ্ছেন আপনার মতো করে। সেই ব্যবস্থা তো চলতে পারে না। সে কারণে বারবার করে বলছি, আবারও বলছি, শান্তিপূর্ণভাবে বলছি, এ দেশটাকে বাঁচানোর জন্য এখনো সময় আছে। আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হোক। জনগণের দাবি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটা নির্বাচনের জন্য পদত্যাগ করেন। একটা নির্বাচন দিন। সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংকট দূর হবে।

তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (তারেক রহমান) সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এবং যুগপৎ আন্দোলনে সম্পৃক্ত সমস্ত রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী ১২ তারিখে (বুধবার) প্রত্যেকে নিজ নিজ জায়গা থেকে গণতন্ত্রের জন্য, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নতুন আন্দোলনের যাত্রার ঘোষণা দেব। শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের কর্মসূচিগুলো পালন করতে পারি আল্লাহ যেন সেই শক্তি দেন। আল্লাহতায়ালা আমাদের নেতাদের রোগমুক্ত করেন। নিপীড়নকারী নির্যাতনকারী শেখ হাসিনার সরকার গোটা জাতিকে অসুস্থ করে ফেলেছে।

মহাসচিব বলেন, ম্যাডাম নিজে বলেছেন, তাকে যখন পুরনো সেন্ট্রাল কারাগারে রাখা হয়েছিল। কারাগারের লোকজনের কাছে পরে আমরা শুনেছি, একটা স্যাঁতসেঁতে পুরনো ঘর, দেয়াল দিয়ে পানি পড়ছে, ইদুর দৌড়াচ্ছে, সেখানে নেত্রীকে রাখা হয়েছিল। তার চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বহুবার দেনদরবার করলেও তার চিকিৎসা করেনি। যখন করোনা শুরু হয়ে গেল তখন তাকে বাসায় পাঠানো হলো। আবার উনি (প্রধানমন্ত্রী) বলে কি আমি করুণা করেছি। তার দয়ায় নাকি!

দোয়া মাহফিলে দলের কেন্দ্রীয় নেতা বরকত উল্লাহ বুলু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, ভিপি জয়নাল, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, রুহুল কবির রিজভীসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে নেতাদের আশু আরোগ্য কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড পিস স্টাডিজ আয়োজিত ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক চাপ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, শেখ হাসিনা যদি সোনা দিয়ে দেশকে মুড়িয়ে দেয়, তবুও জনগণ এই সরকারকে ভোট দেবে না। তারা এটা বুঝে গেছে বলেই আজ নানাভাবে নিপীড়ন করছে। পাকিস্তান বাহিনী যখন এই দেশ থেকে চলে গিয়েছিল, তখন কীভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল। ঠিক একইভাবে শেখ হাসিনা যদি ক্ষমতায় না থাকতে পারে, তাহলে চেষ্টা করবে দেশকে ধ্বংস করতে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে ঢাবি অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন রোকন, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সমাবেশের জন্য ডিএমপির মৌখিক আশ্বাস বিএনপির- রাজধানীর নয়াপল্টনে আগামী বুধবার সমাবেশ করতে আবেদন করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছ থেকে মৌখিক আশ্বাস পেয়েছে বিএনপি। গতকাল দুপুর ২টার দিকে ডিএমপির প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদলের সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব এ্যানি আরও বলেন, বুধবার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে আমরা সমাবেশের আহ্বান জানিয়েছি। আমরা সহযোগিতা চেয়েছি। আমরা আশাবাদী, পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করবে।

সমাবেশের অনুমতি না পেলে কী করবেন- জানতে চাইলে এ্যানি বলেন, এটা আমাদের রাজনৈতিক সমাবেশ। এখানে অনুমতি নেওয়ার কোনো বিষয় নেই। প্রতিনিধিদলে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া ছিলেন।