বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতেই হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে না। বিএনপি মিছিল, সভা-সমাবেশ করলেও হরতাল-অবরোধ করেনি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এ সরকারকে উৎখাত করা হবে বলে মন্তব্য করে তিনি।
সরকারের সব হেডকোয়ার্টার দখল করে নেওয়া হবে।
শুক্রবার বিকেলে নোয়াখালীর শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন। কৃষক দলের পদযাত্রায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন।
আওয়ামী লীগকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেনে, ‘আর সময় নেই, আপনাদের সময় শেষ। আমি পরিষ্কারভাবে বলেছি, আবারও বলছি, ভালো ছেলের মতো, সুবোধ বালকের মতো পদত্যাগ করুন, সংসদ ভেঙে দিন। ভালোয় ভালোয় পদত্যাগ করলে ভালো। তা না হলে ফয়সালা হবে রাজপথে।’
তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকলে, নিরপেক্ষ সরকার থাকলে, নির্দলীয় সরকার থাকলে আওয়ামী লীগের ভাত নেই। সবাইকে বোকা বানিয়ে, বিচারব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে, খায়রুল হকের ওপর জোর দিয়ে পার্লামেন্টে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করেছেন। কেন? কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকলে, নিরপেক্ষ সরকার থাকলে, নির্দলীয় সরকার থাকলে আওয়ামী লীগের ভাত নেই। ৩০টি আসনও পেত না।’
আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, ‘তারা বলে নির্বাচন আমাদের অধীনে হবে। আমরাই ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করব। আমরাই ভোট দেওয়াব, আমাদের মতো করে সবাইকে ভোট দিতে হবে। নইলে চলে যেতে হবে। তারা আমাদের ভোটারদের এখনো বলে, ভোট কাকে দিবা? যদি বিএনপিকে ভোট দিতে চাও তাহলে তোমার ভোট হয়ে গেছে। ভোটকেন্দ্রে যাইতেই দেয় না।’
শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের বলে তাদের অধীনে ভোট দিতে হবে। ২০১৮ সালে শেখ হাসিনা আমাদের ডেকে বলেছিল, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে সবাই ভোট করতে পারবেন। সবাইকে বলেন, ভোট করতে আমি কোনো বাধা দেব না। আমরা ভাবলাম বোধ হয় শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে। কিন্তু আগের রাতে ভোট হয়ে গেল। এখন আবার বলছে, আমরা সুন্দর ভোট করব। আমাদের অধীনেই ভোট হবে। কিন্তু আমরা এবার ভোট হতে দিব না।’
দুর্নীতির প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। আমাদের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। এটা একটা লুটের রাজত্বে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আবার পাচারের টাকা দেশে নিয়ে আনার একটা বিধান করেছে। কী মজা, আমাদের ট্যাক্সের টাকা নিয়ে তারা চোরদের পুরস্কার দিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্র মেরামতের জন্য ৩১ দফা দিয়েছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান ৩১ দফা দিয়ে আমাদের নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছেন।’
পদযাত্রায় বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লা বুলু, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবদীন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম প্রমুখ।
সে সময় নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ আজাদ, নোয়াখালী জেলা যুবদলের সভাপতি মনজুরুল আজম সুমন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন খান, জেলা বিএনপির সদস্য মো. গোলাম মোমিত ফয়সাল, জেলা শ্রমিক দলের সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির সহযোগী সংগঠন কৃষকদল, শ্রমিকদল, মৎস্যজীবী দল, তাঁতীদল ও জাসাসের উদ্যেগে পদযাত্রায় নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও কুমিল্লা জেলার নেতাকর্মীরা অংশ নেয়।