আপিল খারিজ, জাপানি দুই শিশু থাকবে মায়ের কাছে

জাপান থেকে আসা ১৩ ও ১১ বছর বয়সী দুই শিশুর জিম্মা পেতে অধস্তন আদালতে তাদের বাবা ইমরান শরীফের করা আপিল খারিজ হয়ে গেছে। ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া গতকাল রবিবার এ রায় দেন।

এতে করে দুই শিশু এখন মায়ের জিম্মায় থাকবে বলে জানিয়েছেন নাকানো এরিকোর আইনজীবীরা।

রায় নিয়ে শিশু দুটির মায়ের পক্ষের আইনজীবীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও বাবার পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এই আদালতের বিষয়ে উচ্চ আদালতে অনাস্থার আবেদনটি নিষ্পত্তির আগেই এ রায়ে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দুই শিশুর অভিভাবকত্ব নিয়ে উচ্চ ও অধস্তন আদালতে এই দম্পতির আইনি লড়াই, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, সমঝোতার চেষ্টার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

সন্তানদের হেফাজতে নিতে ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইমরান শরীফ পারিবারিক আদালতে একটি মামলা করেছিলেন। গত ২৯ জানুয়ারি ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত সহকারী জজ ও পারিবারিক আদালত এ মামলাটি খারিজের রায় দেয়। ফলে দুই সন্তানের জিম্মা পান মা নাকানো এরিকো। এ রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করলে গত ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত এক আদেশে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছোট মেয়েকে এক দিন বাবার কাছে এবং এক দিন মায়ের কাছে রাখতে নির্দেশ দিয়ে মামলাটি জেলা জজ আদালতে পাঠায়। পরে ১৬ ফেব্রুয়ারি জেলা জজ আদালতের বিচারক আপিলটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে সন্তানদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ইমরান শরীফ ও নাকানো এরিকোকে সমঝোতার তাগিদ দিয়ে মামলার রায়সহ যাবতীয় নথি তলব করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ৯ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এক আদেশে ইমরান শরীফের করা আপিল তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলে। ফলে গতকাল আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই দম্পতির বড় সন্তান মায়ের কাছে এবং অন্য সন্তান ছিল বাবার কাছে। ইমরান শরীফের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাসিমা আক্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই আদালতে আমরা ন্যায়বিচার পাব নাÑ এমন ধারণা থেকে বিচারকের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছিলাম। বিষয়টি আপিল বিভাগে আগামীকাল (আজ) শুনানির জন্য আছে। আমাদের কোনো বক্তব্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণ না শুনেই বিচারক রায় দিয়েছেন। এখন পূর্ণাঙ্গ রায়ে কী আছে, সেটি দেখব। আমরা এ রায়ের বিষয়ে আপিল করে উচ্চ আদালতের নজরে আনব।’

নাকানো এরিকোর আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির সাংবাকিদের বলেন, আপিল মামলাটি খারিজ করেছেন আদালত। ফলে দুই শিশুসন্তানই এখন মায়ের কাছে থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করব, আইন মেনে শিশু দুটিকে মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’