মানি লন্ডারিং আইন

দুদকের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান টিআইবির

সংশোধিত মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২-এর বিধিমালা জরুরি ভিত্তিতে সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, আইনে ২৭ ধরনের অপরাধ-সম্পৃক্ত মানি লন্ডারিংয়ের তদন্ত ও অনুসন্ধানের ক্ষমতা দুদকের কাছে ন্যস্ত ছিল, সেগুলো পুনরায় দুদকের এখতিয়ারভুক্ত করতে হবে। গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান ড. ইফতেখারুজ্জামান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, দুদকের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তা বিবেচনায় নিয়ে মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত সব অপরাধ অন্যান্য সংস্থার পাশাপাশি দুদকের এখতিয়ারভুক্ত করতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা-২০১৯ তফসিল সংশোধন করতে হবে। টিআইবির গবেষণানির্ভর ধারাবাহিক অধিপরামর্শমূলক কার্যক্রমের বহুবিধ সাফল্যের অন্যতম দৃষ্টান্ত হিসেবে স্বাধীন দুদক প্রতিষ্ঠা পেয়েছে, যদিও এর কার্যকারিতার ঘাটতি নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ ক্রমাগত বেড়েই চলছে। দুদক প্রতিষ্ঠার পর থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করছে টিআইবি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে যে, সুনির্দিষ্ট অভীষ্ট নিয়ে দুদক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, একাধিক আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে দুদকের ক্ষমতা হ্রাস করে তা অর্জনের পথে অন্তরায় সৃষ্টি করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার একটি অন্যতম উদাহরণ হলো, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী দুদককে ২৭ ধরনের সম্পৃক্ত অপরাধ তদন্ত ও অনুসন্ধানের ক্ষমতা দেওয়া হলেও ২০১৫ সালে তা সংশোধন করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর তফসিলে শুধু ‘ঘুষ ও দুর্নীতি’ ব্যতীত অন্য ২৬টি অপরাধসংশ্লিষ্ট মানি লন্ডারিং অনুসন্ধান ও তদন্তের দায়িত্ব দুদকের কাছ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অর্থ পাচার প্রতিরোধে দুদকের মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিহার্য। কিন্তু উল্লিখিত সংশোধনের ফলে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত অনেক অপরাধের অনুসন্ধান ও তদন্ত দুদকের এখতিয়ারভুক্ত না থাকায় সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে ঘোষিত ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা’ বাস্তবায়নে, বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগজনক সমস্যা অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে দুদক তার প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে পারছে না।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘নির্ভরযোগ্য সূত্রে আমরা জেনেছি, দুদকের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ সংক্রান্ত আইনি সংশোধনের একটি উদ্যোগ চলমান আছে, যা ইতিবাচক। এ প্রক্রিয়া অবিলম্বে চূড়ান্ত করে জরুরি ভিত্তিতে ২০১২ বিশেষ করে ২(ঠ) ধারা সংশোধন করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ এর তফসিলে বর্ণিত অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য নির্ধারিত সংস্থার তালিকা ক্রমের ৩, ৫, ৬, ১৪, ১৮, ১৯ ও ২৫ নম্বর তথা যথাক্রমে দলিল দস্তাবেজ জালকরণ, প্রতারণা, জালিয়াতি, দেশি ও বিদেশি অর্থ পাচার, চোরাচালানি ও শুল্কসংক্রান্ত অপরাধ, করসংক্রান্ত অপরাধ এবং পুঁজি বাজারসংক্রান্ত অপরাধ (ইনসাইডার ট্রেডিং অ্যান্ড মার্কেট ম্যানিপুলেশন) থেকে উদ্ভূত মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারসংক্রান্ত সব অপরাধ অন্যান্য সংস্থার পাশাপাশি দুদকের এখতিয়ারভুক্ত করার লক্ষ্যে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯ তফসিলসহ সংশোধন করতে হবে।’

টিআইবি মনে করে, আইনটির উল্লিখিত সংশোধনের সময় টিআইবির উদ্বেগ আমলে না নিয়ে শুধু দুদকের ক্ষমতা হ্রাসই করা হয়নি বরং এর মধ্য দিয়ে মানি লন্ডারিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের অবস্থান ও পরিচয়ভেদে সুরক্ষা প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। অবিলম্বে পুনরায় আইনটির বিধিমালা ও তফসিলসহ সংশোধন করে উল্লিখিত অপরাধসংশ্লিষ্ট মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধকেও জরুরি ভিত্তিতে দুদকের তফসিলভুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে টিআইবি। একই সঙ্গে অর্থ পাচারসহ সব ধরনের দুর্নীতির প্রতিরোধ ও প্রতিকারে কারও প্রতি অনুকম্পা বা ভয়ের ঊর্ধ্বে থেকে ব্যক্তির পরিচয় ও অবস্থান নির্বিশেষে আইনানুগভাবে সৎ সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক শুদ্ধাচার নিশ্চিত করে অর্পিত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হওয়ার জন্য দুদকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।