আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক বহিষ্কৃত মেয়র এবং আওয়ামী লীগ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার হওয়া জাহাঙ্গীর আলম। গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে গণভবনে যান জাহাঙ্গীর ও তার মা গাজীপুর সিটি মেয়র জায়েদা খাতুন।
গণভবনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দেশ রূপান্তরকে জানায়, সাক্ষাতের বিষয়টি সত্যি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সালাম করেন জাহাঙ্গীর। এরপর কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের অন্যায়ের জন্য অনুশোচনা করে ক্ষমা চান জাহাঙ্গীর।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দেশ রূপান্তরকে বলেছে, প্রধানমন্ত্রী জাহাঙ্গীরকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। দলের জন্য কাজ করতে নির্দেশ দেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর জাহাঙ্গীর আলম ফের দলে ফিরছেন বলে গাজীপুরে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। গতকাল বিকেল থেকে ফেসবুকে এ নিয়ে অনেককে পোস্ট দিতে দেখা যায়। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে জায়েদা খাতুন ও তার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম বিস্তারিত কিছু জানাননি।
জাহাঙ্গীর আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের উন্নয়নের ব্যাপারে কথা হয়েছে।’ কী কথা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সময় হলে সবই জানতে পারবেন।’ তাকে সহসা দলে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এটি নেত্রী ও দলের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হলে দলের সাধারণ সম্পাদক আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন।’
জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়ে আবেদন করেন মেয়র জায়েদা খাতুন ও তার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল তাদের সাক্ষাতের সময় দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য এক দিন আগে মা জায়েদা খাতুন ও ছেলে জাহাঙ্গীর আলম করোনা পরীক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। গতকাল দুপুর ১টার দিকে তারা নিজ গাড়ি নিয়ে গাজীপুর মহানগরের ছয়দানা এলাকার বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। গাড়ির সামনের আসনে মা জায়েদা খাতুন এবং পেছনে জাহাঙ্গীর আলমকে বসা থাকতে দেখা গেছে।
এর আগে গত ৩ জুলাই নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে গণভবনে মা জায়েদা খাতুনের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম।
২০২১ সালের ১৯ নভেম্বর একটি ভিডিও ক্লিপ ভাইরাল হলে জাহাঙ্গীর আলমকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। দল থেকে বহিষ্কারের সাত দিন পর ২৫ নভেম্বর তাকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২১ জানুয়ারি ক্ষমতাসীন দল তাকে সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দেয়। এরপর ২৫ মে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হন জাহাঙ্গীর আলম। পরে ফের তাকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। ঋণখেলাপির দায়ে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। তবে মা জায়েদা খাতুনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। তিনি মেয়র নির্বাচিত হন।
* প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন গাজীপুর প্রতিনিধি মো. আমিনুল ইসলাম