খুলনায় ফখরুল

হিরো আলমকেও সহ্য করতে পারে না আওয়ামী লীগ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমকে মারধরের ঘটনায় সরকারের সমালোচনা করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে এতটা দেওলিয়া হয়ে গেছে যে, হিরো আলমকে পর্যন্ত তারা সহ্য করতে পারে না। গতকাল সোমবার বিকেলে খুলনা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলো সোনালী ব্যাংক চত্বরে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল আয়োজিত বিভাগীয় তারুণ্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ঢাকা- ১৭ আসনের নির্বাচনে ওখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আছে একজন। হেভিভোল্টেজ প্রার্থী হচ্ছেন আরাফাত। আওয়ামী লীগের থিংক ট্যাংকের প্রধান নেতা, প্রফেসর আবার ডক্টরও। আরেকজনও প্রার্থী আছেন, তিনি নিজে প্রার্থী হয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তাকে আপনারা সবাই চেনেন, তিনি হলেন হিরো আলম। তাকে বাংলাদেশের মানুষ একটু ভিন্নভাবে চেনেন, জানেন। প্রথমে তাকে বেআইনি ঘোষণা করল। পরে তিনি হাইকোর্ট গিয়ে প্রার্থিতা ফিরিয়ে নিয়ে আসলেন ইলেকশন করার জন্য।

তিনি বলেন, উনি (হিরো আলম) একটি কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। কেন্দ্রেতেও কোনো ভোটার নেই। সব কেন্দ্রেই খালি পড়ে আছে। প্রার্থীদের তো কেন্দ্রে যেতে হয়। সেই কেন্দ্রে ভোট দিতে গেছে আওয়ামী লীগের সেসব বিখ্যাত সন্ত্রাসী, যারা আওয়ামী লীগকে পাহারা দেয়, তারা বেচারা হিরো আলমকে তাড়িয়ে দিয়েছে। শুধু তাড়িয়েই দেয়নি, তাকে বাইরে এসে রাস্তায় মাটিতে ফেলে বেধড়ক পিটিয়েছে। সে এখন হাসপাতালে। কিছুক্ষণ আগে সোশ্যাল মিডিয়াই এ ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। আমি এ কথাটি এজন্য বলছি যে, বাংলাদেশে তারা কী করুণ তামাশার সৃষ্টি করেছে। কী তামাশা গণতন্ত্রকে নিয়ে। আবার এরা চিৎকার করে বলে গণতন্ত্র তাদের কাছেই নাকি নিরাপদ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন শুধু কাজ আর কাজ। আমাদের কাজ হচ্ছে, বাংলাদেশের মানুষকে সংগঠিত করে অবৈধ জোর করে ক্ষমতায় বসে থাকা সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো। এ সরকারকে না সরালে শুধু ভোট নয়, বাংলাদেশের অস্তিত্বই থাকবে না। হাসিনার অধীনে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু আমাদের দল থেকে নয়, ৩৬ দলের পক্ষ থেকে বলেছি, এ অবৈধ সরকারের অধীনে আমরা কোনো নির্বাচনে যাব না। পরিষ্কার কথা, নির্বাচনকালীন যদি নিরপেক্ষ সরকার না থাকে তাহলে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। আমরা বলেছি, এই মুহূর্তে পদত্যাগ করতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। যারা যোগ্য তাদের আসতে হবে। নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন পার্লামেন্ট গঠন করতে হবে। রাষ্ট্রীয় মেরামতের যে ৩১ দফা কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে, সেই কর্মসূচি সব দলের সঙ্গে আলাপ করে একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করে সেটাকে বাস্তবায়ন করা হবে। আমাদের এক দফা এক দাবি শেখ হাসিনার পদত্যাগ। এ কথা না শুনলে ফয়সালা হবে রাজপথে।

তারুণ্যে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও বিশেষ বক্তা ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী। এ ছাড়া আরও বক্তৃতা করেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির এজাজ খান।

সমাবেশ পরিচালনা করেন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।

বেলা ৩টায় সমাবেশ শুরুর কথা থাকলেও দুপুর ১২টার মধ্যেই খুলনা বিভাগের ১০ জেলা ও এক মহানগরীসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সমাবেশস্থল ভরে যায়। সমাবেশে নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে আসেন। বেলা ১১টার মধ্যে খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নেতৃত্বে তার অনুসারীরা মঞ্চের সামনে স্থান নেন।