ইসির সঙ্গে বৈঠক

নির্বাচনী আইনের খুঁটিনাটি জানতে চেয়েছে ইইউ

বাংলাদেশের নির্বাচনবিষয়ক আইন ও বিধিবিধানের খুঁটিনাটি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে সফররত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদল। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইন শাখার সঙ্গে বৈঠকে বসেন ইইউর প্রতিনিধিরা। তিন ঘণ্টার বৈঠকে ইসির সব আইন ও বিধিবিধানের বিষয়টি জানতে চান তারা। ইসির পক্ষ থেকে বিষয়গুলোর বিস্তারিত তুলে ধরার পাশাপাশি আইন-কানুনের কিছু কাগজপত্র সরবরাহ করা হয়। বাকিগুলোও সরবরাহ করার অনুরোধ করেছেন ইইউর প্রতিনিধিরা।

ইসির আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফর করছে ইইউর প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল।

রিকার্ডো চেলারির নেতৃত্বাধীন এই প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সরকারের একাধিক মন্ত্রী, আওয়ামী লীগসহ একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এর আগে ১১ জুলাই তারা ইসির সঙ্গে এক দফা বৈঠক করেন।

গতকাল বৈঠক শেষে ইসির যুগ্ম সচিব (আইন) মাহাবুবার রহমান সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ইইউ থেকে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানো হবে কি না, এ জন্য আগেও তাদের একটি দল এসেছিল। তখন তারা ইলেকশন প্রসেসিং জানতে বসতে চেয়েছিলেন। আমাদের প্রক্রিয়া, আইন-কানুন যা আছে, বিদেশি পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক, দেশি পর্যবেক্ষক কীভাবে কাজ করবেন, কীভাবে করবেন না এসব বিষয় জানতে চেয়েছেন। আমাদের বাংলায় আইন, ওনারা তো জানেন না। এগুলো তারা জানতে চেয়েছিলেন, আমরা প্রোভাইড (সরবরাহ) করেছি।’

তিনি আরও বলেন, সংবিধান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) থেকে শুরু করে সংশোধনী যেগুলো হয়েছে, বিদেশি পর্যবেক্ষকরা আসতে গেলে কোন প্রক্রিয়ায় আসতে হবে, কীভাবে আসতে হবে, ইকুইপমেন্ট যদি লাগে কীভাবে নিয়ে আসবেন এগুলো, নির্বাচনবিষয়ক যা কিছু আছে খুঁটিনাটি সব জানতে চেয়েছেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সংশোধনী নিয়ে ইইউ প্রতিনিধিরা কোনো উদ্বেগের কথা বলেছেন কি না জানতে চাইলে ইসির যুগ্ম সচিব (আইন) বলেন, ‘উদ্বেগের কিছু বলেননি। ওনারা জানতে চেয়েছেন। সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টির কোনো বিষয় আসে নাই। আমাদের এক্সিসটিং ল, রুলস, রেগুলেশন, ইলেকশন প্রসেসিং, এগুলো নিয়ে কথা হয়েছে।’

নির্বাচনে সহায়তা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওনারা কোনো সাপোর্ট দেবেন এমন কিছু বলেন নাই। ওনাদের কী সাপোর্ট দেব, সেটা জানতে চেয়েছেন। যেমন তারা আসবেন, দুই মাস আগে যদি আসেন তাদের পাসপোর্টের বিষয় থাকে। এয়ারপোর্টে সাপোর্টের বিষয় থাকবে। ইকুইপমেন্ট লাগলে কোথায়, কীভাবে নিয়ে আসবেন।’

নির্বাচনী খুঁটিনাটি জানতে চেয়েছেন উল্লেখ করে আইন শাখার যুগ্ম সচিব বলেন, ‘আমাদের এখানে লিগ্যাল ডিসপিউটগুলো কীভাবে নিষ্পত্তি হয়, সেটা জানতে চেয়েছেন। আইনে প্রসিডিউরগুলো কীভাবে হয় তা জানতে চেয়েছেন। নির্বাচনের আগে-পরে, যেমন নমিনেশন পেপার সাবমিট কীভাবে হয়, সেটাও ওনারা জানতে চেয়েছেন। বাছাই কীভাবে হয়, প্রসেসগুলো কী..., সেগুলো তো ওনাদের জানার কথা নয়।’