মামলা নিতে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থানার ওসি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাইফুল হক। তিনি কুতুবদিয়ার উত্তর ধূরং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মগলাল পাড়া গ্রামের মৃত হাজি আবদুল হকের ছেলে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের বাড়িতে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের ডেকে ওসির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন তিনি।

সাইফুল হক অভিযোগ করে বলেন, কুতুবদিয়ার ধূরং বাজারে চৌরাস্তার মোড়ে তার ফলের দোকানে গত ১৯ এপ্রিল গভীর রাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পরদিন ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে কুতুবদিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ (এজাহার) জমা দেন। ঘটনার একদিন পর কুতুবদিয়া থানার ওসি মিজানুর রহমান সকাল ১১টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পান। কিন্তু পরবর্তীন সময়ে মামলায় ঝামেলা আছে দাবি করে মামলা নথিভুক্ত করতে ১ লাখ টাকা খরচ দাবি করেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রথমে ২০ হাজার টাকা ওসির হাতে দেন। পরে দেন আরও ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু ঘুষ নেওয়ার পরও ছয়বার এজাহার পরিবর্তন করে ডাকাতি মামলাকে সাধারণ চুরি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।

সাইফুল হক আরও বলেন, ‘ওসি মিজান ও তার সহযোগী এসআই জিয়া উদ্দীন দক্ষিণ ধূরং ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদের পক্ষ নিয়ে আমাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেন। মামলার পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জিয়া উদ্দীন তদন্তের জন্য খরচের টাকা দাবি করেন। তাকেও ১২ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।’

এসআই জিয়া উদ্দীন বর্তমানে কক্সবাজার মডেল থানায় কর্মরত রয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মামলাটি আমি হ্যান্ডওভার (হস্তান্তর) করে দিয়েছি। ওই মামলায় কোনো ধরনের টাকা-পয়সা নিয়েছি বাদী তা প্রমাণ করতে পারলে দ্বিগুণ টাকা ফেরত দেব।’

আর ওসি মিজানুর রহমান ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘স্থানীয় একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে সাইফুল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তার দোকানে চুরি হয়েছিল। আমরা চুরির মামলা নিয়েছি। ডাকাতি মামলা না নেওয়ায় সাইফুল হক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন।’