নির্বাচনের আগে ট্রেন যাবে কক্সবাজার

চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে পর্যটন নগরী কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের ৮৭ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। পুরো কাজ শেষ হতে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লেগে যাবে। ফলে নির্বাচনের আগেই ট্রেনে করে ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বন-পাহাড় ও নদীর ওপর দিয়ে ১০০ কিলোমিটারের এই রেলপথ তৈরিতে খরচ পড়ছে ১৮ হাজার ৩৫ কোটি টাকা। প্রকল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে আইকনিক স্টেশন। সাগরতীরের কক্সবাজারের প্রতিচ্ছবি বোঝাতে ঝিনুকের আদলে নির্মিত হচ্ছে পর্যটনবান্ধব এই রেলওয়ে স্টেশন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্টেশনে হোটেল, মার্কেট, লকারসহ প্রয়োজনীয় সব সুবিধা রাখা হচ্ছে। এতে পর্যটকরা স্বল্প খরচে সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। দিনে দিনে যারা ফিরতে চান তারা শুধু লকার ভাড়া করে সেখানে ব্যাগেজ রেখে ঘোরাঘুরি করতে পারবেন। এতে হোটেল ভাড়ার বিপুল খরচ বেঁচে যাবে। আর আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনে এক ছাতার নিচে মিলবে সব ধরনের নাগরিক সুবিধা। কক্সবাজারকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে সরকারের নানামুখী উদ্যোগের মধ্যে এটি একটি।

সম্প্রতি সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কলাতলী মোড় হয়ে নির্মাণাধীন রেলওয়ে স্টেশনে গেলে সবুজের সমারোহ নজর কাড়বে। স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাইরে চলছে রেললাইন বসানোর কাজ। ইতিমধ্যে স্টেশন এলাকার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। শেষপর্যায়ে রয়েছে ওভারব্রিজের নির্মাণকাজও। স্টেশনের প্ল্যাটফরমে ট্রেন থেকে নেমে যাত্রীরা ওভারব্রিজ দিয়ে রেললাইন পার হবেন। স্টেশনের বাইরে গোলাকৃতির চত্বর তৈরি করা হয়েছে; সেখানে স্থাপন করা হবে ঝিনুক আকৃতির ফোয়ারা। স্টেশন এলাকা থেকে কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবেন পর্যটকরা।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের দোহাজারি থেকে কক্সবাজার রেলপথটি দুটি ভাগে ভাগ করে কাজ করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। দোহাজারি থেকে চকরিয়া অংশের কাজ করছে সিআরইসি ও তমা কনস্ট্রাকশন। এ অংশের কাজের চুক্তিমূল্য প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এই প্যাকেজের আওতায় ইতিমধ্যে ১৯টি সেতু এবং দোহাজারি, সাতকানিয়া, লোহাগড়া, হারবাং ও চকরিয়ায় স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। আর চকরিয়া থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত অংশের কাজ করছে সিসিইসিসি এবং ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার। এ অংশের কাজের চুক্তিমূল্য ৩ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। এ প্যাকেজের আওতায় ১১৫টি কালভার্ট নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। আর ডুলা হাজরা, ইসলামাবাদ, রামু ও কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে ৪৯ কিলোমিটার অংশের রেলওয়ে ট্র্যাক সংযোগ করা হয়েছে।

২০১৮ সালের ১ মার্চ চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়; আগামী জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু নির্ধারিত মেয়াদের প্রায় ১০ মাস আগে প্রকল্পের কাজ শেষ হচ্ছে। তবে অনেক আশার মধ্যেও কিছু হতাশা রয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে; কিছু স্থানে ক্ষতিগ্রস্তরা ঠিকাদারদের নির্মাণকাজে বাধা দিচ্ছে। আর কিছু কারণে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, প্রকল্প প্রণয়নের উদ্যোগ শুরু হয় ২০১০ সালের জুলাইয়ে। এরপর নানা প্রক্রিয়া শেষ করে প্রকল্পের কাজ শেষ হচ্ছে আগামী সেপ্টেম্বরে। যদিও আগামী জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মিয়ানমার, চীনসহ ট্রান্স এশিয়া রেলওয়ে করিডরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা হবে। বড় বিষয় হলো পর্যটন শহর কক্সবাজার রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে। এর ফলে পর্যটকদের চলাচল সহজ হওয়ার পাশাপাশি মাছ, লবণ, রাবার তৈরির কাঁচামাল, বনজ ও কৃষিজাত পণ্য সহজে ও কম খরচে পরিবহন করা যাবে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণকাজ শেষপর্যায়ে আছে। আগামী সেপ্টেম্বরের পর প্রকল্পটি উদ্বোধন করা যাবে।

তিনি বলেন, পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে তুলে ধরতে আইকনিক রেলস্টেশনটি ঝিনুকের আকৃতিতে গড়ে তোলা হচ্ছে।