‘টাকার শোকে আমার বাবা মারা গেছেন। সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে চেয়ারম্যান যে টাকা নিয়েছেন তার সাক্ষী আছে। বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও জানেন। টাকা ফেরত নিতে চেয়ারম্যানের কাছে চার-পাঁচ মাস ঘুরতে ঘুরতে অবশেষে টাকার শোকে আমার বাবা মারা যান।’ বিলাপ করতে করতে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন ময়মনসিংহের ঈশ^রগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমড়া শাসন গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার মেয়ে সেলিনা আক্তার।
সেলিনার দাবি, তার মা হতদরিদ্রদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর বরাদ্দ পেতে মাইজবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুল ইসলাম বাবুলকে ১৯ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের পরিবার সেই ঘর বা ঘুষ হিসেবে দেওয়া টাকার কোনোটাই পায়নি। আর এই শোকে তার বাবা গত বছরের ১৬ অক্টোবর অসুস্থ হয়ে মারা যান। গতকাল সোমবার এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইদুল ইসলাম বাবুলের বিরুদ্ধে ঈশ^রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন সেলিনা আক্তার।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, কুমড়া শাসন গ্রামের চাঁন মিয়ার স্ত্রী মোছা. রাহেলা খাতুনের (৬০) কাছ থেকে ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইদুল ইসলাম বাবুল (৪৩) প্রায় এক বছর আগে সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ১৯ হাজার টাকা নেন। কিন্তু ঘর না দিয়ে বিভিন্ন বাহানায় ঘোরাতে থাকলে ভুক্তভোগী রাহেলা চেয়ারম্যানের কাছে টাকা ফেরত চান। চেয়ারম্যান টাকা দিই-দিচ্ছি করে দীর্ঘদিন ধরে ঘোরাতে থাকেন। টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য মৃত চাঁন মিয়াও দীর্ঘদিন ধরে ঘুরেছেন। এ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন।
মাইজবাগ ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘টাকা দেওয়ার বিষয়ে প্রথমে আমার জানা ছিল না। পরে বিষয়টি জেনে চেয়ারম্যান সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে জানান।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে আমি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঈশ্বরগঞ্জের ইউএনও মোসা. হাফিজা জেসমিন বলেন, ‘ঘর হচ্ছে যারা ভূমিহীন ও গৃহহীন তাদের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার। আর যেহেতু অভিযোগ জমা পড়েছে, তাই অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’