এবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বি্িরফংয়ে সমাবেশ গ্রেপ্তার প্রসঙ্গ

বাংলাদেশের বিভিন্ন ঘটনা প্রায় নিয়মিতই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিংয়ে উঠছে। ১৩ মিশন প্রধানকে তলবের পর এবার ঢাকায় বিএনপি ও সমমনা দলগুলো এবং আওয়ামী লীগের তিন সংগঠনের সমাবেশ ও গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গটি উঠল। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার আগের অবস্থান ব্যক্ত করে বলেছে, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতার স্থান নেই। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাব দেন উপপ্রধান মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল। তাকে প্রশ্ন করে বলা হয়, বাংলাদেশের পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে যাচ্ছে। সরকারবিরোধী বিএনপি তাদের বৃহস্পতিবারের মহাসমাবেশ পিছিয়ে শুক্রবার নিয়ে গেছে। অন্যদিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ একইদিন পাল্টা সমাবেশ ডেকেছে। তারা মনে করছে, বিএনপির সমাবেশ কর্মসূচি স্পষ্টত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সহিংসতার উসকানি। ক্ষমতাসীনদের কর্মসূচি পালনে সুবিধার জন্য বিরোধীদের বাধা দিতে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। বিরোধী দল দাবি করছে, পুলিশ একাই তাদের হাজার হাজার কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। শাসক দল রাজপথে সহিংসতার উসকানি দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন।

জবাবে বেদান্ত প্যাটেল বলেন, ‘আগের দিনও (বুধবার) এ বিষয়ে আমি কিছু কথা বলেছি। আমি আবারও বলব, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতার স্থান নেই এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনো দলকে সমর্থন করে না।  অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের লক্ষ্যকে আমরা সমর্থন করি। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করার গুরুত্বের ওপরও জোর দিয়েছে এবং নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করে যে এই প্রচেষ্টায় রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো স্থান নেই।’

উল্লেখ্য, সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিএনপি ও সমমনা ৩৭টি দল বৃহস্পতিবার পৃথকভাবে সমাবেশ করার ঘোষণা দেয়। এরপর আওয়ামী লীগের তিন সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগ একইদিন সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে। সরকারের উন্নয়ন প্রচারের লক্ষ্যে তারুণ্যের জয়যাত্রা নামে এই সমাবেশ ডাকা হয়। দুই সমাবেশের অনুমতি ও স্থান নিয়ে বুধবার নাটকীয়তার পর বিএনপি শুক্রবার করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগের তিন সংগঠন।