‘আমরা অমিত হাবিবকে ধারণ করে এগিয়ে চলছি’

দেশ রূপান্তরের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক অমিত হাবিব মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন এক বছর আগে। চিরবিদায় নিয়ে চলে গেলেও দেশ রূপান্তর তার আদর্শকেই ধারণ করে চলেছে। তাই চলে গেলেও তিনি দায়িত্বশীলদের দৈনিকের সঙ্গেই আছেন। দেশ রূপান্তরের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক অমিত হাবিবের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রবিবার স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যলয়ে এ সভা হয়। এ সময় ‘অমিত আলোকসজ্জা : অমিত হাবিবের সংবাদচিন্তা’ নামে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়।

অমিত হাবিব গত বছর ২৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

স্মরণসভায় দেশ রূপান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেন, অমিত হাবিবের সঙ্গে মৃত্যু জিনিসটি যায় না। তিনি আমাদের কাজের মধ্যেই বেঁচে থাকবেন। তিনি সবসময় ভালো দল নিয়ে কাজ করতেন। কাজের ক্ষেত্রে অনেক লড়াই করতেন। কোন জায়গায় কোন জিনিসটি আলোচনার মূল বিষয়বস্তু সেটি তিনি ভালো করে বুঝতে পারতেন। গত এক বছরে তার উপস্থিতি আরও তীব্র হয়েছে। তাছাড়া অমিতদাকে ধারণ করেনÑ এরকম লোকজনই দেশ রূপান্তরের নেতৃত্বে রয়েছেন। অন্য কোনো খবরের কাগজ তাদের প্রয়াত একজন সম্পাদককে এভাবে ধারণ করে না।

মোস্তফা মামুন আরও বলেন, অমিত হাবিবকে দেখে অনেকেই দেশ রূপান্তরে এসেছেন। এখানে প্রায় সবাই অমিতদার চিন্তার ধারক ও বাহক। আমরা পত্রিকায় সবসময় অমিত হাবিবকে ধারণ করি। আমরা অমিত হাবিবকে নিয়ে একটি ছোট আকারে ম্যাগাজিন করেছি। কিন্তু এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ম্যাগাজিন। বাংলাদেশে আর কোনো সাংবাদিকের সংবাদচিন্তা নিয়ে এভাবে সাজানো-গোছানো ম্যাগাজিন সম্ভবত করা হয়নি। আগামী বইমেলায় সংবাদচিন্তা এবং অসীমে অমিত এ দুই ম্যাগাজিন একসঙ্গে করে বই প্রকাশ করা হবে। বইয়ে আরও কিছু নতুন বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বইটি সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীদের সহপাঠ্য বই হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।

রূপায়ণ গ্রুপের উপদেষ্টা আব্দুল গাফফার বলেন, অমিত হাবিবের সঙ্গে দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করেছি। অনেক গুণে গুণান্বিত ছিলেন তিনি। দেশ রূপান্তরের যেদিকে তাকাই, সেদিকেই আমরা অমিত হাবিবকে খুঁজে পাই। দেশ রূপান্তর অত্যন্ত খারাপ সময়ে বাজারে এসেছে। প্রকাশের কিছুদিন পরই শুরু হয় করোনা মহামারী। অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও তিনি সবাইকে নিয়ে সুন্দরভাবে পত্রিকাটি চালিয়েছিলেন। তরুণ সাংবাদিকদের আইকন ছিলেন অমিত হাবিব। আমরা সবসময় অমিতদাকে স্মরণ করব। মৃত্যুর মাধ্যমে বুঝিয়ে গেছেন তিনি কত বড় সাংবাদিক ছিলেন। তার মারা যাওয়ার পর তা প্রকাশ পেয়েছে।

সাংবাদিক সৌমিত্র দস্তিদার বলেন, আমি কলকাতার লোক। তবে দেশ রূপান্তরে শুরু থেকেই আমি এখানে লেখালেখি করি। অমিত হাবিব খুব সহজে জটিল সমস্যাগুলো সমাধান করে দিতেন। তার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।

বার্তা সম্পাদক শাহ আলম বাবুল বলেন, অমিতদার সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছাটা সবসময় ছিল। সেটি তিনি বুঝতেও পারতেন। তার সঙ্গে বাংলা মোটর থেকে শুরু করে আবার বাংলা মোটরে এসে শেষ করি। অর্থাৎ অমিতদাকে ভোরের কাগজে পাই। তখন ভোরের কাগজের অফিস ছিল বাংলা মোটরে। মাঝখানে কালের কণ্ঠেও অমিতদার সঙ্গে কাজ করেছি। অমিতদার শেষ দিনগুলো কেটেছে দেশ রূপান্তরে। বাংলা মোটরের এ অফিসেও অমিতদার সঙ্গী হয়েছি। সবকিছুর জন্য অমিতদার প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা।

দেশ রূপান্তরের বিশেষ প্রতিনিধি সরোয়ার আলম বলেন, অমিতদা ভালো টিম নিয়ে কাজ করতেন। যাকে তিনি পছন্দ করতেন তাকে তিনি দলে নিতেন। নানা কৌশলে দলে ভেড়াতেন। সোজা পথে না হলে ইমোশনালি কথা বলতেন। দেশ রূপান্তর প্রকাশের প্রথম দিকে প্রচার-প্রচারণার কাজও আমাকে করতে হয়েছে। এগুলো করে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এতসব কাজ করেছি শুধু অমিতদাকে ভালোবেসে। তিনি সেই ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। তিনি যাকে ভালোবাসতেন, তাকে ভালোই বাসতেন। কাজের প্রতি তিনি খুব পাগল ছিলেন। অমিতদার স্বপ্নপূরণের জন্য আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব।

বিশেষ প্রতিনিধি পাভেল হায়দার চৌধুরী বলেন, অমিতদাকে ছেড়ে আমি একটি অনলাইনে যোগ দিই। আবার দেশ রূপান্তরে ফিরে আসি। যখন অমিতদার সঙ্গে ছিলাম না, তখন প্রতিদিন এক ধরনের কষ্ট পেতাম। সেই কষ্টটা বলে বোঝানো যাবে না। ওই সময় আমি অমিতদা থেকে পালিয়ে পালিয়ে কাজ করেছি। অমিতদার এত গল্প, যা সহস্র এক আরব্য রজনীকে হার মানায়। অমিতদার গল্প বলে শেষ করা যাবে না।

স্মরণসভায় দেশ রূপান্তরের অতিরিক্ত বার্তা সম্পাদক জুয়েল মোস্তাফিজ বলেন, আমাদের প্রতিটি কাজেই অমিতদা থাকেন। তাকে আলাদাভাবে স্মরণ করতে হয় না। কারণ হচ্ছে, তিনি যেভাবে নির্দেশনা দিতেন এখনো আমরা সেভাবেই কাজগুলো করি। তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন আমাদের মাঝে।

আলোকচিত্র সম্পাদক সাহাদাত পারভেজ বলেন, দেশ রূপান্তরের জন্য ক্যামেরা কিনে এনে প্রথম দিন অমিতদার কিছু ছবি তুলেছিলাম। কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে নিয়ে সেসব ছবি তুলিনি। উদ্দেশ্যবিহীনভাবে তোলা সেসব ছবির একটি হয়ে উঠেছে তার প্রধান ছবি। ছবিটি এমনভাবে তোলা হয়েছে, যেকোনো দিক থেকে তাকালে মনে হয় তিনি তার দিকেই তাকিয়ে আছেন। ফটোগ্রাফি বিষয়টিকে ধারণ করতেন অমিতদা।

সিনিয়র সহসম্পাদক মোহসীনা লাইজু বলেন, অমিতদা খাবার সম্পর্কে খুব আগ্রহ ছিল। লাইফ স্টাইল বিষয়েও খুব সচেতন ছিলেন। সাংবাদিকতা জীবনে তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি।

উপমহাব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান বলেন, অমিতদা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছিলেন। আমরা সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়ার চেষ্টা করছি। দেশ রূপান্তরকে সামনে এগিয়ে নিয়ে আমরা তার স্বপ্নপূরণ করব।

এ ছাড়া স্মৃতিচারণ করেন দেশ রূপান্তরের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ইউসুফ কবীর। স্মরণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশেষ প্রতিনিধি আশরাফুল হক।

স্মৃতিচারণ শেষে অমিত হাবিবের জন্য দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মুফতি এনায়েতুল্লাহ। অনুষ্ঠানে দেশ রূপান্তরের সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।