গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) লেকের পানিতে ডুবে দুই ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। লেকপাড় দিয়ে হেঁটে বৃষ্টিতে ভেজার সময় তাদের মধ্যে একজন পা পিছলে পানিতে পড়লে, অন্যজন তাকে বাঁচাতে যান, কিন্তু সাঁতার না জানায় দুজনই পানিতে তলিয়ে মারা যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
নিহতরা হলেন খুলনা শহরের বয়রা মধ্যপাড়ার মনিরুজ্জামান মনিরের মেয়ে মোবাশ্বিরা তানজুম হিয়া এবং বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের মাছকাটা গ্রামের তাসপিয়া জাহান ঋতু। তারা দুজনই বশেমুরবিপ্রবির পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক শিক্ষার্থী জানান, বৃষ্টির মধ্যে হিয়া ও ঋতু লেকের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন। এ সময় তাদের মধ্যে কেউ একজন পা পিছলে লেকের পানিতে পড়ে যান। তখন অন্যজন তাকে বাঁচাতে পানিতে নামেন। কিন্তু সাঁতার না জানায় দুজনই তলিয়ে যান। দূর থেকে বিষয়টি লক্ষ্য করে এক ছাত্র তাড়াতাড়ি লেকের পাড়ে উপস্থিত হন। তিনি অন্যদের সহযোগিতায় ডুবে যাওয়া দুই ছাত্রীকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে ২৫০ শয্যার গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই ছাত্রীকেই মৃত ঘোষণা করেন। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে দুই ছাত্রীর মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত দুই ছাত্রীর মধ্যে ঋতুর নানাবাড়ি বাগেরহাটের কাটাখালীতে, সেখানে আজ বুধবার সকাল ১০টায় তার জানাজা হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
এদিকে দুই ছাত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে অ্যাকাডেমিক এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ ও সেবা থাকলে হয়তো নিহত দুজনকে বাঁচানো যেত।
পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক শিক্ষার্থী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের অবস্থা এত খারাপ কেন? কেন পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ নেই। আমাদের দাবি মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসাসেবা উন্নত করা হোক। অ্যাম্বুলেন্সসেবা আরও দ্রুত গতির হোক, অ্যাম্বুলেন্স সংখ্যা আরও বাড়ানো হোক।’
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করলেও চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই। একটি নামমাত্র মেডিকেল সেন্টার রয়েছে। কিন্তু সেখানে নিয়মিত চিকিৎসক পাওয়া যায় না, অক্সিজেনসেবা নেই। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে লেক থাকলেও সেখানে ওঠানামার কোনো ব্যবস্থা নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘একজন পা পিছলে লেকের পানিতে পড়ে যায় এবং সাঁতার না জানায় পানিতে ডুবে যেতে থাকে। তখন অন্য এক শিক্ষার্থী তাকে বাঁচাতে লেকে নামে, কিন্তু দুজনই মারা যান। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমরা গভীরভাবে শোক প্রকাশ করছি।’
গোপালগঞ্জ সদর থানা-পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শীতল চন্দ্র পাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।