রাব্বী আহমেদের কবিতা

শৃঙ্খল শোরগোল

নগ্ন করো মগ্ন করো প্রেমে

বেহায়ার মতো আটকে গেছি

       বিজন জীবন ফ্রেমে।

 

কাছেই ক্যানো যেতে হবে;

এ কথা জানি না আজও,

চারপাশে কত মুখ দেখি

       ক্যানো বুকে বাজো? 

 

ক্যানো বাজো তানপুরা হয়ে,

ক্যানো হও ঢোল,

ক্যানো হও ললিত রাগের

        শৃঙ্খল শোরগোল।

 

ক্যানো বাজো সেতারের তারে,

ক্যানো হও বাঁশি;

ক্যানো হও সেই প্রেম

যাকে বারবার ছেড়ে আসি।

  

তোমার-আমার দ্বন্দ্ব মিটবে

ছন্দ আসবে কবে;

বেহেশতেও কি তোমার সঙ্গে

এভাবে কাটাতে হবে?

 

তোমার জন্য শব্দ খরচে

এখনো হিসেবি নই,

এসো না দুজন নগ্ন প্রেমের

       নন্দনে মিশে রই।

 

অন্তর্গত ক্ষত

ফুরিয়ে যাচ্ছি তারাবাতির মতো,

স্পর্শ করো অন্তর্গত ক্ষত।

 

সবাই যে যার ভুবনে একা,

সবাই যে যার ভিন্ন দেশে,

 

একাকিত্বের পথ পেরোবার পরে,

      দেখি যৌথজীবন

             দাঁড়ানো ছদ্মবেশে।

কুকুরেরা কবিতা লেখে

 

কুকুরেরা কবিতা লেখে, চারদিকে অবিরল

ঘেউ ঘেউ সিম্ফোনি সুর, নিতে চাও যদি

এই ভারবাহী সময়, কত দূর নেবে

               দেবে কত ভাঙচুর? 

 

কিছু কিছু অঙ্কের নেই ভাগশেষ,

কান্নার ব্ল্যাকবোর্ড কবিতার ক্লাস; 

যৌথ এ রাত যদি পাশাপাশি শোয়,

ঠোঁটে ঠোঁটে থাকে যেন মদিরার গ্লাস। 

 

হে মদিরা, হে রজনী, কাকে তুমি ডাকো; 

কার বুকে মাথা রেখে, কাকে তুমি ভাবো?

যে মাধুরী মিলিয়েছে আকাশের-ও গায়,

একাকী পাখির মতো ডানা ঝাপটায়। 

 

কিছু কিছু ডাকনাম ডাহুকের মতো,

সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে এক নামে ডাকে,

কিছু কিছু প্রেম করে এমন আহত,

হৃদয়ে-তে কাশ্মীরি দাগ লেগে থাকে।

 

পুড়িয়ে দিয়েছো তুমি, পুড়ে যায় সব,

আবারও পোড়াবে বলে এত অনুভব,

জেগে ওঠে স্মৃতির ব্যর্থ সফরে,

তোমাকে হারিয়ে ফেলে পাই চিরতরে।

 

প্রেম নয় ঘৃণা দিয়ে তোমাকে ভোলাবো,

ওগো দুঃখ জাগানিয়া

      তোমায় মদ খাওয়াবো।