ছাত্রলীগ নেতার লুঙ্গির ভাঁজে চাঁদার টাকা

লেগুনা মালিকদের কাছ থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ছাত্রলীগের এক নেতার চাঁদা আদায়ের ভিডিও ফাঁস হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ ও লেগুনা মালিকদের ভাষ্য, সাভার থেকে আশুলিয়াগামী লেগুনা চলাচলে বাধা না দেওয়ার শর্তে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তিন বান্ডিল টাকা নিয়েছেন শাখা ছাত্রলীগের এক নম্বর সহসভাপতি সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ। চাঁদা আদায়ের ভিডিও ফুটেজটি দেশ রূপান্তরের হাতে এসেছে। তাতে দেখা গেছে, সাজ্জাদ প্রথমে লুঙ্গির ভাঁজে টাকাগুলো রাখার চেষ্টা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত সাজ্জাদুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের (৪৩তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন। এখন মওলানা ভাসানী হলে অবস্থানরত এই ছাত্রলীগ নেতা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেলের অনুসারী।

ছাত্রলীগ ও লেগুনা মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, সাভার থেকে আশুলিয়াগামী লেগুনা চলাচলে বাধা না দেওয়ার শর্তে প্রতিটি লেগুনা বাবদ দিনপ্রতি ২৫ টাকা করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে চাঁদা দেওয়া হতো। তবে বিগত দুই মাস সেই চাঁদা দেওয়া বন্ধ ছিল। ছাত্রলীগের নেতারা এবার প্রতিটি লেগুনার জন্য দিনপ্রতি ১০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। লেগুনা থেকে চাঁদা আদায়ের নতুন চুক্তি করতে গত ২৫ জুলাই ২৪টি লেগুনা আটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে রাখা হয়। চারদিন আলোচনার পর এক লাখ ২০ হাজার টাকায় লেগুনাগুলো ছেড়ে দেওয়ার চুক্তি হয়।

দেশ রূপান্তরের হাতে আসা দুই মিনিট ১৫ সেকেন্ডের ভিডিও ফুটেজটিতে দেখা যায়, মাওলানা ভাসানী হলের দুই তলায় মসজিদের সামনে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন সাজ্জাদুল ইসলাম। সেখানে চাঁদার টাকা নিয়ে আসেন লেগুনা চলাচল নিয়ন্ত্রণকারীদের মধ্যে মিন্টু গাজী ও ফজা। সেখানে আরও এক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মিন্টু গাজী সাজ্জাদের হাতে তিন বান্ডিল টাকা তুলে দেন। প্রথমে সাজ্জাদ লুঙ্গির ভাঁজে টাকাগুলো রাখার চেষ্টা করেন। পরে সিঁড়ির কোনা থেকে একটি ব্যাগ নিয়ে তাতে টাকা মুড়িয়ে চলে যান।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানায়, সাজ্জাদের হাতে মিন্টু গাজী ও ফজা মোট ১ লাখ ২০ হাজার টাকা তুলে দেন। পরে চাঁদার একটি অংশ (২০ হাজার টাকা) মীর মশাররফ হোসেন হলে অবস্থানকারী ছাত্রলীগ নেতাদের দেওয়া হয়। চাঁদা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে লেগুনা মালিক ফজা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ এমনকি পুলিশ এবং আরও মানুষকেও টাকা দিতে হয়। এভাবে লেগুনা চালানো যায় না। তবে সাজ্জাদকে কত টাকা দিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে ভিডিওটি গত বছরের দাবি করে সাজ্জাদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, মিন্টু গাজীর সঙ্গে আমার ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। সেই হিসেবে তিনি আমাকে টাকা দেন। যার তথ্য-প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। আমাকে ফাঁসানোর জন্য এসব করা হচ্ছে।

টাকার ভাগ নেওয়া কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক কার্যকরী সদস্য এস এম দিদারুল আলম দ্বীপ বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটা মিথ্যা। আমি জড়িত থাকলে তো আমারও ভিডিও ফাঁস হতো। যেহেতু সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। তাই আমাকে বিতর্কিত করতেই হয়তো মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল বলেন, সাজ্জাদ জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে সাজ্জাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। সে পরিপ্রেক্ষিতে তারা পাওনা টাকা দিতে এসেছিল। ভিডিওটি গত বছরের নভেম্বর মাসের বলে শুনেছি। তবুও আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব। চাঁদাবাজির সঙ্গে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে ফোন করেও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।