সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল

ফরমায়েশি রায় আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ

তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমানের এ মামলা চলার মতো কোনো আইনগত ভিত্তি উপাদান না থাকা সত্ত্বেও আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান দুদক দিয়ে শেখ হাসিনা তার নীল-নকশা কার্যকরের জন্য জোড়াতালি দিয়ে প্রতিহিংসা পূরণের রায় বের করা হয়েছে। গতকাল বুধবার গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এ ফরমায়েশি রায় সরকারপ্রধানের হিংসা ও আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ। দেশ জুড়ে যখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের মধ্যে যে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে বিভ্রান্ত করতে অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকারের এটি একটি কূটচাল। এক দফার আন্দোলনকে নেতৃত্বশূন্য করতে আদালতের ঘাড়ে বন্দুর রেখে প্রতিহিংসা মেটানো হয়েছে। এ ফরমায়েশি রায় জনগণ মানে না। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দেশের জনগণ বিচারের নামে এ প্রহসন, এ ফরমায়েশি রায় ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এসব করে চলমান আন্দোলন দমানো যাবে না। প্রধানমন্ত্রী, আপনি হিংসার পথে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনের নেতা তারেক রহমানকে নতজানু করতে পারবেন না।

এ রায়ের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। এ ছাড়া কাল শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় নয়াপল্টনে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ২০০৭ সালে তথাকথিত ওয়ান ইলেভেনের জরুরি সরকার প্রতিপক্ষ দমনে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে জিয়া পরিবারকে হেয় ও রাজনৈতিক পরিম-ল থেকে ‍উচ্ছেদের গভীর চক্রান্তে মেতে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে কাল্পনিক অভিযোগে মামলাটি দিয়েছিল। তথাকথিত জরুরি সরকার ছিল বর্তমান আওয়ামী লীগেরই আন্দোলনের ফসল। সে সময়ে শেখ হাসিনার নামে ১৫টি দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির মামলা করা হলেও প্রধানমন্ত্রী পদে ক্ষমতা ব্যবহার করে অনুগত বিচারপতিদের দিয়ে সব মামলা প্রত্যাহার করিয়ে দেন তিনি (শেখ হাসিনা)। তাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়নি।

রায়ের প্রতিবাদে কোনো কর্মসূচি দলের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের কর্মসূচি একটাই। এ সরকারের অবিলম্বে পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত এক দফা দাবিÑ এর মধ্যেই সবকিছু আছে। এর মধ্যে আপনারা দেখেছেন, সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নেতাকর্মীরা।

মামলায় দৈনিক দিনকাল (বর্তমানে সরকার কর্তৃক ডিক্লারেশন স্থগিত ও প্রকাশনা বন্ধ) পত্রিকার সম্পদ ও মালিকানা তারেক রহমানের নিজস্ব সম্পদ হিসেবে দেখানো হয়েছে মনগড়া ও উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত বলে জানান বিএনপি মহাসচিব। একই সঙ্গে তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানের মামলায় সম্পদ বিবরণীতে ব্যাংকে গচ্ছিত দুটি এফডিআরের অর্থ তারেক রহমানের জ্ঞাত আয়ের বহির্ভূত অর্থ দ্বারা খোলার কথা বলা হয়েছে, যা প্রকৃত অর্থে জোবাইদা রহমানের মা সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানুর কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।

বিএনপির এ নেতা বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা বিচার বিভাগে সরকারি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে ‘গানপয়েন্টে’ দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের সময় রামদা, লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে হামলা করে আওয়ামী ক্যাডাররা, যা মানুষের হাতে হাতে মোবাইলে ভিডিওতে দৃশ্যমান হয়েছে। অথচ মামলা হয় বিএনপির কয়েক বছর আগে মৃত, কারাবন্দি ও বিদেশে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের নামে। পুলিশি তামাশা এখন সর্বমহলে হাস্যকর বিষয় হয়ে উঠেছে। এ রায় শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী হয়েছে তার বড় প্রমাণ আদালতে প্রায় ৪৯ লাখ মামলার জট থাকলেও আলোর গতিতে চলেছে এ মামলার কার্যক্রম। রাত ৮টা-৯টা পর্যন্ত একতরফাভাবে সাজানো সাক্ষীকে দিয়ে শেখানো বুলি বলানো হয়েছে আদালতে। এক মাসে এ মামলাটির জন্য প্রতিদিন শুনানি করে ৪২ জন সাক্ষী দ্রুতগতিতে নিজেরা নিজেরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছেন। আইনজীবীরা এ ধরনের অস্বাভাবিক বিচারকার্যের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করতে গেলে তাদের ওপর পুলিশ ও সরকারদলীয় আইনজীবীরা একাধিকবার হামলা চালিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নয়াপল্টনে বিক্ষোভ : এ রায়ের প্রতিবাদে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিক্ষোভ করেছেন নেতাকর্মীরা। গতকাল বিকেল সোয়া ৪টার দিকে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় নেতাকর্মীদের ‘ফরমায়েশি রায় বাতিল করো, করতে হবে’; ‘মিথ্যা মামলা, মিথ্যা রায় মানি না, মানব না’ এমন স্লোগান দিতে দেখা যায় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের।

মিছিলে অংশ নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বরকতউল্লা বুলু, আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল প্রমুখ নেতারা। এদিকে বিক্ষোভ চলাকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা একবার সংঘর্ষে জড়ান। পরে একই ইস্যুতে দুবার হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

আজ বিক্ষোভ করবে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল : সাজার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয়ভাবে নয়াপল্টনে তাৎক্ষণিকভাবে যৌথ বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। দেশের সব জেলা ও মহানগরীতে এ কর্মসূচি পালিত হবে বলে সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানান যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। কেন্দ্রীয়ভাবে আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি হবে।

কাল নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিক্ষোভ : এ রায়ের প্রতিবাদে আগামীকাল শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় প্রতিবাদ সমাবেশ করবে মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি। গতকাল মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অন্যদের নিন্দা : এ রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে নিন্দা জানিয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (অলি), লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় সাদা দল, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন।