সেমিনারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

শান্তিরক্ষায় ১৯৩ দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব গ্রহণ করেছে

পৃথিবীতে চিরস্থায়ী একটি শান্তি স্থাপন করতে মানুষে মানুষে হিংসা-বিদ্বেষ কমাতে হবে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য বিশ্বের ১৯৩টি দেশ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা তার বাবার মতোই জাতিসংঘে শান্তির জন্য একটি ভিশন নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আমরা মনে করি, যেখানেই যত অশান্তি তার মূল কারণ হচ্ছে হিংসা-বিদ্বেষ। আর এ হিংসা-বিদ্বেষ যদি কমানো যায় তাহলে পৃথিবীতে আমরা চিরস্থায়ী একটি শান্তি স্থাপন করতে পারব। আর তার এ বক্তব্য বিশ্বের ১৯৩টি দেশ গ্রহণ করেছে।’

গতকাল বুধবার রাজধানীর বাসাবোর ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার অডিটোরিয়ামে ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বৌদ্ধধর্ম ও বৌদ্ধ সার্কিট উন্নয়ন’ বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ ও ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সব সময় বিশ্বাস করতেন শান্তি দেশের উন্নয়নের জন্য খুবই প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধুর এ আদর্শ অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শান্তির জন্য যথেষ্ট উদ্যোগ নিয়েছেন। এমনকি জাতিসংঘে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশ রোল মডেল। শান্তিরক্ষায় বর্তমানে বাংলাদেশে এক নম্বর অবস্থানে আছে।’

ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের সাংবিধানের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যার ফলে দেশের সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ একসঙ্গে মিলেমিশে থাকায় রাষ্ট্রের সঙ্গে মানবিক একটা সম্পর্ক গঠিত হয়। আর প্রধানমন্ত্রী ধর্মনিরপেক্ষতাকে সবসময় জোর দিয়েছেন। তিনি সর্বদাই বলেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। বাংলাদেশ সরকার সব ধর্মকে সমানভাবে ও মর্যাদায় দেখে এবং কোনো ধর্মের প্রতি বৈষম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি রাখে না।’

ড. মোমেন বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় ৫২০ মিলিয়ন বিভিন্ন ভাষাভাষী লোক বৌদ্ধধর্ম চর্চা করে; যা পুরো বিশ্বের মোট জনসংখ্যার সাত ভাগ। বাংলাদেশে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি বৌদ্ধধর্ম বিশ্বাসী বসবাস করে। বৌদ্ধধর্মে বিশ্বাসীরা খুবই শান্তিপ্রিয় মানুষ হয়ে থাকে। বাংলাদেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও তাদের সংস্কৃতি বাংলাদেশে অনেক বড় ভূমিকা রাখে। আমি মনে করি, বৌদ্ধ সার্কিট ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ এবং ভারতের বৌদ্ধদের মধ্যে আরও ভালো সম্পর্ক স্থাপন করবে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।’

সেমিনারটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত সাবের হোসেন চৌধুরী। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরো। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া‌।