দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অস্থিরতা রোধ করতে ব্যাপক পরিকল্পনা নিচ্ছে পুলিশ। কোনো রাজনৈতিক দল বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। এই জন্য ঢাকাসহ সারা দেশের পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা আসছে। নির্বাচনকালীন যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশকে প্রস্তুত থাকাসহ বেশ কিছু নির্দেশনা থাকছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া পুলিশ সদর দপ্তরের ক্রাইম কনফারেন্সে।
রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই সভায় সভাপতিত্ব করবেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। সভায় সব অতিরিক্ত আইজিপি, উপ-মহাপরিদর্শক, রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন কমিশনার, উপ-কমিশনার ও জেলা পুলিশ সুপাররা উপস্থিত থাকবেন। সভায় পুলিশের রুটিন কাজের পাশাপাশি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ক্রাইম কনফারেন্সে বিএনপিসহ সরকারবিরোধীদের আন্দোলনের বিষয়টি ভালোভাবেই থাকবে। কারণ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীলতা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হতে পারে এমন আশঙ্কা করছে পুলিশ। বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, আন্দোলনের নামে একটি গোষ্ঠীঢ দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে হেফাজতকে মাঠে নামাতে পারে। হেফাজতের বিষয়ে ও মাদ্রাসাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারির বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। তাছাড়া নির্বাচনের আগে একটি মহল নানামুখী গুজব ছড়িয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। তাই গুজব রোধে বিশেষ নির্দেশনা থাকবে ক্রাইম কনফারেন্সে।
পুলিশ সদর দপ্তরের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে এই ক্রাইম কনফারেন্সটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনপূর্ববতী সময়ে মাঠ পুলিশের করণীয় বিষয় নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা থাকবে সভায়। সম্প্রতি আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় পুলিশে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাই লাইসেন্স নেওয়া বৈধ অস্ত্রে সঠিক অবস্থান নিশ্চিত হওয়া, বৈধ অস্ত্র মিসিং আছে কি না সেটা খোঁজ নেওয়া, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অবৈধ অস্ত্রের কারবারিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনাসহ নির্দেশনা থাকবে।
তারা বলেন, নির্বাচনের আগে বিরোধী মহল সরকার পতনের জন্য বড় ধরনের আন্দোলন করতে পারে। এ সময় কেপিআই স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার, কেপিআই স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণসহ বিভিন্ন নির্দেশনা থাকতে পারে। এছাড়া নির্বাচনের আগে বিভিন্ন আন্দোলনে টাকার বিনিময়ে কিশোর অপরাধীদের মাঠে নামাতে পারে সুযোগসন্ধানী মহল। তাই কিশোর অপরাধীদের বিষয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা থাকবে ক্রাইম কনফারেন্সের নির্দেশনায়। ওই কর্মকর্তারা আরও বলেন, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকার বিষয়ে নির্দেশনা থাকবে ক্রাইম কনফারেন্সে।
সূত্র জানায়, সম্প্রতি জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করে প্রতিকার বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা থাকবে ক্রাইম কনফারেন্সে। এছাড়া পুলিশের রেঞ্জভিত্তিক ডাকাতি, চুরি, হত্যা, ছিনতাইসহ অপরাধ পর্যালোচনা, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার, নারী নির্যাতন, পুলিশ ক্যাম্পের অস্ত্র লুটের মামলা, পুলিশ সদস্য হত্যা মামলার পর্যালোচনাসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। সম্প্রতি বিএনপির আন্দোলনের নামে যানবাহন পোড়ানোর বিষয়টিও সভায় আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আতিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ক্রাইম কনফারেন্স আমাদের রুটিন ওয়ার্ক। আমরা প্রতি তিন মাস পরপর ক্রাইম কনফারেন্স করে দেশের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করি। এই সভা তারই অংশ।’
পুলিশ সদর দপ্তরের উপমহাপরিদর্শক (অপারেশন) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ক্রাইম কনফারেন্সে সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি আলোচনা হবে। সবার পরামর্শ, উন্মুক্ত আলোচনাসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে আইজিপি মহোদয় বিভিন্ন নির্দেশনা দেবেন। সে অনুযায়ী মাঠ পুলিশ কাজ করবে।’
নাম প্রকাশ না করে পুলিশের একাধিক ডিআইজি ও পুলিশ সুপার দেশ রূপান্তরকে বলেন, সম্মেলনে প্রায় সব রেঞ্জের ডিআইজি, কয়েকজন মেট্রোর কমিশনার ও এসপি মামলাগুলোর বিষয়ে বক্তব্য রাখবেন। আইজিপি কঠোর বার্তা দিতে পারেন বলে তারা মনে করছেন।